ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: রয়টার্স
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ 'জি'-এর গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বেলজিয়াম ও মিশর ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে। পুরো ম্যাচ জুড়ে দুই দলের আক্রমণ আর পাল্টা-আক্রমণের উত্তেজনা ছিলো উপভোগ্য।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে। তবে ম্যাচের ২০তম মিনিটেই বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে বিধ্বস্ত করে মিশরকে এগিয়ে নেন ইমাম আশুর। তাঁর দুর্দান্ত গোলটিতে উল্লাসে মেতে ওঠে মিশরের সমর্থকরা। এক গোলে পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বেলজিয়াম। প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালালেও মিশরের শক্তিশালী ডিফেন্স ও গোলকিপারের কল্যাণে গোলমুখ খুলতে পারেনি তারা। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় মিশর।
দ্বিতীয়ার্ধে বেলজিয়াম তাদের আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয়। বল পজিশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে মিশরের ডি-বক্সে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে তারা। অবশেষে ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত, তবে তা মিশরের জন্য ছিল চরম দুর্ভাগ্যজনক। বেলজিয়ামের একটি আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়ে মিশরের খেলোয়াড় মোহাম্মেদ হানির আত্মঘাতী (ওন গোল) গোলে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম (১-১)।
ম্যাচের পরিসংখ্যান
পরিসংখ্যানের বিচারে দুই দলের লড়াই ছিল সমানে সমানে। বেলজিয়াম পুরো ম্যাচে ৫৩ শতাংশ বল পজিশন নিজেদের দখলে রেখেছিল, যেখানে মিশরের দখলে ছিল ৪৭ শতাংশ। বেলজিয়াম মোট ৪৪৫টি পাস সম্পন্ন করে যার পাস অ্যাকুরেসি ছিল ৮৮ শতাংশ, অন্যদিকে মিশর ৩৬৭টি পাস দেয় যার অ্যাকুরেসি ছিল ৮২ শতাংশ।
আক্রমণের দিক থেকে বেলজিয়াম ১৫টি শট নেয়, যার মধ্যে ৩টি ছিল অন-টার্গেট। অপরদিকে মিশর ১৪টি শট নিয়ে ৪টি অন-টার্গেট রাখতে সক্ষম হয়। কর্নার পাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্য মিশর এগিয়ে ছিল, তারা মোট ৭টি কর্নার আদায় করে যেখানে বেলজিয়াম পায় মাত্র ২টি।
ম্যাচটি কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল তা ফাউলের সংখ্যা দেখলেই বোঝা যায়। দুই দলই ১৫টি করে ফাউল করেছে এবং উভয় দলই ২টি করে হলুদ কার্ড দেখেছে। ম্যাচে কোনো লাল কার্ডের ঘটনা ঘটেনি। বেলজিয়ামের কোনো অফসাইড না থাকলেও মিশর ১ বার অফসাইডের ফাঁদে পড়ে।
শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ ব্যবধানের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল। এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ পর্বে নিজেদের অবস্থান আরও জমিয়ে তুলল বেলজিয়াম ও মিশর।