নিজস্ব প্রতিবেদক
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনি ছবি: ধ্রুব নিউজ
বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের মুজিব বাহিনীর প্রধান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন । আজ সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনি দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ বার্ধক্যজনিত ও গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে বৃহত্তর যশোর অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে অনন্য ভূমিকা পালন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনি। তার অসীম সাহস, গভীর দেশপ্রেম ও অনন্য নেতৃত্বগুণের কারণে তিনি মুজিব বাহিনীর প্রধান হিসেবে এ অঞ্চলে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে তার এই বীরত্বগাথা ও অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বাদ আসর যশোর ঈদগাহ ময়দানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে বলে জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এই বীর সন্তানকে শেষ বিদায় জানানোর প্রস্তুতি চলছে।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও বীরত্বগাথা জীবন
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনি কেবল একজন যুদ্ধনায়কই নন, বরং এ অঞ্চলের রাজনীতির এক পুরোধা ব্যক্তিত্ব। ছাত্রজীবনেই ৬০-এর দশকে তিনি তৎকালীন যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন । ১৯৬৯ সালে তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি যশোর মুসলিম একাডেমী থেকে এসএসসি, এমএম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অত্যন্ত সুনামের সাথে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে প্রথম ব্যাচেই ভারতের দেরাদুনে গিয়ে উচ্চতর যুদ্ধের ট্রেনিংয়ে অংশ নেন তিনি। দেশ স্বাধীনের পর বৃহত্তর যশোর অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করে মুজিব বাহিনীর প্রধান হিসেবে অনন্য নেতৃত্ব দেন।
দেশ স্বাধীনের পর তিনি জাসদ (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল) প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং দীর্ঘদিন জেলা জাসদের সভাপতি ছিলেন। পরবর্তীতে দল বিভক্ত হলে তিনি জাসদ (ইনু)-র জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭ সালে জাসদের বিভিন্ন অংশ ঐক্যবদ্ধ হলে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। জেলা আওয়ামী লীগের সরাসরি কোনো পদে না থাকলেও প্রতিটি জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে দলটির পক্ষে সক্রিয় প্রচারণায় অংশ নিতেন তিনি।
শ্রদ্ধাঞ্জলি > জাতির এই গর্বিত সন্তান চলে গেলেও তার সংগ্রাম, ত্যাগ ও বীরত্বের কাহিনি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণা হয়ে বেঁচে থাকবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।