আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়লেও এই মেগা ইভেন্টের আড়ালে অন্যতম দুই আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোয় অপরাধ চক্রের অনৈতিক তৎপরতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। লাখ লাখ বিদেশি পর্যটক ও ফুটবলপ্রেমীদের আগমনকে কেন্দ্র করে দেশ দুটিতে অবৈধ মানবপাচার এবং জোরপূর্বক অনৈতিক ব্যবসার বাজার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এবারের বিশ্বকাপে মেক্সিকো মোট ১৩টি ম্যাচ আয়োজন করবে মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা ও মন্তেররেইয়ে। মেক্সিকোর শীর্ষ জাতীয় দৈনিক ‘মিলেনিও’ এবং সংবাদমাধ্যম ‘অ্যানিমেল পলিটিকো’-র অনুসন্ধান অনুযায়ী, বিশ্বকাপের এই বিশাল জনসমাগমকে অবৈধ আয়ের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে কুখ্যাত অপরাধী সংগঠন ও মাদক কার্টেলগুলো। অপরাধবিষয়ক গবেষকদের মতে, এই তিনটি প্রধান শহরের বিনোদন রুট ও বারগুলো এখন সম্পূর্ণভাবে অপরাধী চক্রের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। গুয়াদালাহারায় সক্রিয় ‘হালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল’ এবং মন্তেররেইয়ে আধিপত্য বিস্তারকারী ‘নর্থইস্ট ও সিনালোয়া কার্টেল’ সেখানকার পেশাজীবীদের নিয়মিত নির্দিষ্ট অংকের চাঁদা দিতে বাধ্য করছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্য অনুযায়ী, এই কালোবাজারি ব্যবসার বৈশ্বিক মূল্য বছরে প্রায় ৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ লাখ ১৭ হাজার ১৩ কোটি টাকার সমান। মাদক চক্রগুলো নারীদের শুধু অনৈতিক কাজেই বাধ্য করছে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে তাদের জিম্মি করে মাদক পাচার ও প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের ওপর নজরদারির মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করছে।
অন্যদিকে, যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সি অঞ্চলেও এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক দর্শক সমাগমের প্রস্তুতি চলছে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ম্যাচগুলো উপভোগ করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১২ লাখ ফুটবলপ্রেমী এই অঞ্চলে পা রাখবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিশাল জনসমাগমকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিনোদন ও এসকর্ট সেবার চাহিদা রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা বিদেশি পর্যটকদের কারণে বুকিং এবং অগ্রিম লেনদেনের হার কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই পরিস্থিতি মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, বিশ্বকাপের বাড়তি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আড়ালে মানবপাচারের ঘটনা বাড়তে পারে। নিউ জার্সি স্টেট অ্যাসোসিয়েশন অব চিফস অব পুলিশের সভাপতি অ্যান্ড্রু ক্যাজিয়ানোও এই ঝুঁকির বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করেছেন। দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল জেনিফার ডেভেনপোর্ট বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করতে নিউ জার্সি স্টেট পুলিশ প্রায় ১,২০০ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে, যারা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ও অনানুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানস্থলে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাবেন।