❒ স্ত্রী সাবার বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১২ লাখ টাকা ও সাড়ে ৩১ ভরি গহনা আত্মসাতের অভিযোগে স্বামীর মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: প্রতীকী
সিনেমার গল্পকেও হার মানানো এক নাটকীয় প্রতারণার শিকার হয়েছেন যশোর শহরের বেজপাড়া এমএসটিপি রোড এলাকার বাসিন্দা আনন্দ কুমার সরকার। অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে বাপের বাড়িতে গিয়ে একে একে হাতিয়ে নিয়েছেন নগদ ৩ কোটি ১২ লাখ টাকা ও সাড়ে ৩১ ভরি স্বর্ণের গহনা। এরপর গোপনে ধর্মান্তরিত হয়ে মেতেছেন পরকীয়ায়, করেছেন দ্বিতীয় বিয়ে!
বিশ্বাসভঙ্গের এমন এক চমকপ্রদ ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগে সাবেক স্ত্রীসহ দুইজনের বিরুদ্ধে যশোর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভুক্তভোগী স্বামী আনন্দ কুমার সরকার বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল অভিযোগটি আমলে নিয়ে আসামিদের প্রতি সমন জারির আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী স্বপন কুমার ভদ্র।
মামলার অভিযুক্ত আসামিরা হলেন— নড়াইল লোহাগড়ার গোপীনাথপুর গ্রামের পবিত্র সরকারের মেয়ে ফাল্গুনী শিকদার রিমি ওরফে সাবা এবং একই উপজেলার কুন্দসী গ্রামের শেখ মনিরুজ্জামানের স্ত্রী ও সাবার সহযোগী সেমিন খানম।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর একাকীত্ব কাটাতে বাদী আনন্দ কুমার সরকার ২০১৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পারিবারিকভাবে সাবাকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় ভালোবেসে স্ত্রীকে সাড়ে ৩১ ভরি স্বর্ণের গহনা দিয়েছিলেন তিনি। বেশ সুখে-শান্তিতেই কাটছিল তাদের দিন। তবে বিপত্তি ঘটে ২০১৯ সালের এপ্রিলে। হঠাৎ তীব্র শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে বাপের বাড়িতে কয়েক মাস থাকার বায়না ধরেন সাবা। স্বামীও সরল বিশ্বাসে তার সব গহনাসহ তাকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেন। কিন্তু এরপর থেকেই শুরু হয় আসল খেলা।
দিনের পর দিন কেটে গেলেও অসুস্থতার অজুহাতে আর স্বামীর ঘরে ফেরেননি সাবা। উল্টো চিকিৎসার নামে বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে স্বামীর কাছ থেকে ৯১ লাখ ৩৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। এখানেই শেষ নয়, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সাবার সহযোগী সেমিন খানমের বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট এবং দুই আসামির তিনটি ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে আরও ২ কোটি ২০ লাখ ৭৩হাজার ১১৫ টাকা পাঠাতে বাধ্য করেন সাবা। বাপের বাড়িতে বসেই তিনি স্বামীর সরলতার সুযোগ নিয়ে মোট ৩ কোটি ১২ লাখ ১০ হাজার ১১৫ টাকা আত্মসাৎ করেন।
গল্পের চূড়ান্ত মোড় আসে চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি। বাদী আনন্দ কুমার সরকার আচমকা জানতে পারেন, তার স্ত্রী সাবা বহু আগেই গোপনে ধর্মান্তরিত হয়ে গেছেন এবং লিভ-ইন পার্টনার থেকে পরকীয়া প্রেমিক ও বর্তমানে দ্বিতীয় স্বামী রাসেল শেখ নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে দিব্যি সংসার করছেন! ফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে সাবা অকপটে তা স্বীকারও করেন।
পরদিন ৩১ জানুয়ারি আনন্দ সরকার তার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে গহনা ও কোটি কোটি টাকা ফেরত চাইলে প্রথমে সাবার পরিবার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা সই করে টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে টাকা ও গহনা হাতছাড়া হওয়ার পর সাবা ও তার সহযোগীরা আসল রূপ ধারণ করেন। টাকা চাইলে এখন উল্টো বাদী আনন্দ কুমার সরকারকে অপহরণ ও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় থানায় মামলা না নেওয়ায় অবশেষে আইনি প্রতিকার ও ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এই সর্বস্বান্ত স্বামী।