সাইফুল ইসলাম
যশোর ইনস্টিটিউট পুকুর পাড়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সাথে প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতি স্বচ্ছ শহর গড়ার স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রকাশ পায়। ছবি: ধ্রুব নিউজ
আকাশজুড়ে যখন বর্ষার ধূসর মেঘ, তখন শহরের অলিতে-গলিতে এক অদৃশ্য আতঙ্ক ডানা মেলে। জমে থাকা স্বচ্ছ জলবিন্দুতে কখন যে নিঃশব্দে বংশবৃদ্ধি করে বসে প্রাণঘাতী এডিস মশা, তা সাধারণ মানুষের নজর এড়িয়ে যায় প্রায়শই। রোগ ছড়ানোর পর হাসপাতালের বারান্দায় শয্যা সংকটের হাহাকার শোনার চেয়ে, রোগ ছড়ানোর আগেই তার উৎস মূলে আঘাত করাটাই যে জনস্বাস্থ্যের সবচেয়ে বড় কাজ—আজকের সকালটি যশোরবাসীকে যেন সেই মন্ত্রেই দীক্ষিত করল। আর এই লড়াইয়ের সম্মুখভাগে থেকে নেতৃত্ব দিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। যশোর ইনস্টিটিউট পুকুর পাড়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সাথে প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতি স্বচ্ছ শহর গড়ার স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রকাশ পায়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় এবং জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার সার্বিক সহযোগিতায় আজ সকালে এই বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রামের আয়োজন করে যশোর ইনস্টিটিউট। কেবল কাগজের নির্দেশিকায় সীমাবদ্ধ না থেকে এই নাগরিক লড়াইয়ের অগ্রভাগে এসে দাঁড়ান প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে এবং কর্মীদের সাথে নেমে পরিষ্কারের কাজ তদারকি করেন।
কাজের ফাঁকে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত অত্যন্ত সহজ ভাষায় মনে করিয়ে দিলেন এক কঠোর বাস্তবতার কথা। তিনি বলেন, সামনেই বর্ষার দীর্ঘ মরসুম, যা ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার মতো রোগের জন্য সবচেয়ে উর্বর সময়। এই রোগের মরণকামড় থেকে দেশের মানুষকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতি সপ্তাহের শনিবার দেশব্যাপী জোরালোভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানোর দূরদর্শী নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী নিজের তত্ত্বাবধানে এই কাজ শুরু করে জোর দিয়ে বলেন, রোগাক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় যাওয়ার চেয়ে রোগ ছড়ানোর উৎস বন্ধ করাটা অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও বুদ্ধিমানের কাজ। তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই অভিযান যেন কেবল একদিনের ছবি তোলার আনুষ্ঠানিকতায় রূপ না নেয়; একে প্রতিমন্ত্রীর কড়া নজরদারিতে ধরে রাখতে হবে বর্ষার শেষ দিনটি পর্যন্ত। সেই সাথে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিটি পরিবার যদি কেবল নিজেদের আঙিনা আর ছাদটুকু পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব নেয়, তবে কোনো মশার সাধ্য নেই পুরো শহরকে জিম্মি করার।
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে প্রতিমন্ত্রীর এই আহ্বানের পেছনে এককাট্টা হয়েছিলেন শহরের নানা প্রান্তের মানুষ। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, যশোর ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক এ জেড এম সালেক, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন এবং পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বি এম কামাল আহমেদ—সবাই যেন আজ প্রতিমন্ত্রীর এই কর্মযজ্ঞের সাথে এক সুতোয় গেঁথেছিলেন নিজেদের।
আনুষ্ঠানিকতার পর্ব চুকে যাওয়ার পরও প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় দুপুরের কড়া রোদ উপেক্ষা করে শহরের ড্রেন ও নর্দমায় চলেছে লার্ভা ধ্বংসের ওষুধ ছিটানোর কাজ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই লড়াই দীর্ঘমেয়াদি। যতক্ষণ না বর্ষার প্রকোপ কমছে এবং লার্ভার বংশবৃদ্ধি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে, ততক্ষণ প্রতিমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তদারকিতে যশোরের রাজপথে পরিচ্ছন্নতা অভিযান থামবে না।