ক্রীড়া ডেস্ক
শাবি আলোন্সোকে স্যাক করার পর মাদ্রিদ অফিসিয়ালে কোচ হিসাবে ডাগআউটে এনেছিলেন কোচ আলভারো আর্বেলোয়াকে ছবি: বিবিসি
রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুমে এখন উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও এখন বেশি আলোচনা হচ্ছে কোচ আলভারো আরবেলোয়ার সঙ্গে ফুটবলারদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের মাঠে নামানো বা 'গেমটাইম' নিয়ে কোচের সিদ্ধান্তে চরম অসন্তুষ্ট দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। নামী স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে আরবেলোয়ার কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে সরাসরি বিরোধে জড়িয়েছেন দলের অন্তত ছয়জন ফুটবলার।
এই অস্থিরতার শুরুটা হয়েছিল তরুণ মিডফিল্ডার এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে কেন্দ্র করে। আরবেলোয়া দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিকের একটি ম্যাচে কামাভিঙ্গাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ায় তিনি মেজাজ হারান। পরিস্থিতি এতটাই ঘোলাটে হয় যে, ডাগআউটের পাশেই কোচের সঙ্গে প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডায় জড়াতে দেখা যায় এই ফরাসি তারকাকে। তবে কেবল কামাভিঙ্গা নন, অভিজ্ঞ দানি কারভাহালও কোচের ওপর ক্ষুব্ধ। ভ্যালেন্সিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কারভাহালকে সাইডলাইনে বসিয়ে রেখে লা ফাব্রিকার তরুণ ফুল-ব্যাক ডেভিড হিমেনেসকে সুযোগ দেন আরবেলোয়া, যা কারভাহাল একেবারেই ইতিবাচকভাবে নেননি। এই ঘটনার পর তিনি সরাসরি কোচের মুখোমুখি হয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
দলের আরেক ডিফেন্ডার আলভারো কারেরাসের গল্পটাও অনেকটা একই। রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে ম্যাচে তাকে শুরুর একাদশে না রাখায় তিনি কোচের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের মনোমালিন্যে রূপ নেয়। অন্যদিকে, অভিজ্ঞ ডেভিড আলাবার অবস্থা আরও শোচনীয়। দীর্ঘদিন মাঠে নামার কোনো সুযোগ না পেয়ে তিনি সরাসরি আরবেলোয়ার সঙ্গে কথা বলতে গেলেও তাতে কোনো সুরাহা হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কোচের সঙ্গে আলাবার ব্যক্তিগত বা পেশাদার কোনো যোগাযোগই অবশিষ্ট নেই।
তরুণ প্রতিভা রাউল আসেনসিও নিজের ক্ষোভ লুকিয়ে রাখেননি। ম্যানচেস্টার সিটির মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে তাকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারেননি এবং ক্লাবের ভেতর নিজের অসন্তুষ্টির কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। তবে সবার চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে আছেন দানি সেবায়োস। তিনি কোনো রাখঢাক না করেই আরবেলোয়াকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোচের সঙ্গে কাজ করার কোনো আগ্রহ তার নেই এবং তিনি এই সম্পর্ক এখানেই শেষ করতে চান। সব মিলিয়ে আরবেলোয়ার 'রোটেশন পলিসি' বা খেলোয়াড় নির্বাচনের পদ্ধতি রিয়াল মাদ্রিদ শিবিরে এক বড় ফাটল তৈরি করেছে, যা সামাল দেওয়া এখন ক্লাব কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।