Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

পুলিশ সাংবাদিকসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা কলেজ ছাত্রীকে আটকে রেখে চাঁদাবাজির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল,২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
পুলিশ সাংবাদিকসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা কলেজ ছাত্রীকে আটকে রেখে চাঁদাবাজির অভিযোগ

মণিরামপুর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এক কলেজ ছাত্রীকে অপহরণ ও দুই দিন থানায় আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা সেলিনা খাতুন। আদালতের বিচারক মাহবুবা শারমীন অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে পিবিআই-কে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, লালমনিরহাটের বাসিন্দা ও ওই কলেজ ছাত্রী সামিয়া আফরুজ মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। পারিবারিক কলহের জেরে তিনি যখন কিছুটা বিপর্যস্ত ছিলেন, তখন যশোর ও মণিরামপুরের কয়েকজন কথিত সাংবাদিক তাকে কুমন্ত্রণা দিতে শুরু করেন। সামিয়াকে প্রলোভন ও ভয় দেখিয়ে গত ১৬ মার্চ সকালে মণিরামপুরে নিয়ে আসেন আসিফ আকবর সেতু ও নুর ইসলাম নাহিদ নামের দুই যুবক।

সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে মণিরামপুর থানার তৎকালীন ওসি রজিউল্লাহ খানের বিরুদ্ধে। এজাহার অনুযায়ী, ১৬ মার্চ দুপুরে সামিয়াকে যখন থানার স্টাফ রুমে নিয়ে আসা হয়, তখন তিনি সেখান থেকে চলে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ওসি নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে এবং সাংবাদিকদের সাথে যোগসাজশে তাকে টানা দুই রাত থানায় আটকে রাখেন। এদিকে সামিয়ার বাবা মেয়ের খোঁজ না পেয়ে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানায় জিডি করেন এবং ১৭ মার্চ মণিরামপুর থানায় হন্যে হয়ে খুঁজলেও ওসি সরাসরি অস্বীকার করেন যে সামিয়া সেখানে নেই।

পরিবারের দাবি, এই পুরো অপহরণ নাটকটি সাজানো হয়েছিল টাকা হাতানোর জন্য। সামিয়াকে আটকে রেখে আসামিরা তার দুলাভাইয়ের কাছে দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না পেয়ে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, ১৭ মার্চ দুপুরে তহিদুল ও জাকির হোসেন নামের দুই আসামি সামিয়ার কাছ থেকে জোরপূর্বক একটি কাগজে স্বাক্ষর নেন, যা ছিল মূলত তার দুলাভাইয়ের নামে একটি মিথ্যা মামলা।

সামিয়ার পরিবার প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশের অসহযোগিতার কথা তুলে ধরলে টনক নড়ে প্রশাসনের। পরে বিকেলে জানা যায়, সামিয়াকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পরবর্তীতে সামিয়া নিরাপত্তা হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর পরিবারের কাছে ওসির কক্ষ ও সাংবাদিকদের ভূমিকার বিস্তারিত বর্ণনা দিলে তার মা আদালতের আশ্রয় নেন।

বাদীর আইনজীবী আব্দুর রহমান সোহাগ বলেন, "আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও সমাজের দর্পণ হিসেবে পরিচিত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চেয়েছি এবং পিবিআই-এর তদন্তে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে বিশ্বাস করি।


মণিরামপুর থানার সাবেক ওসি রজিউল্লাহ খান ছাড়াও আসামিরা হলেন— জাকির হোসেন, সুমন চক্রবর্তী, নুর ইসলাম নাহিদ, তহিদুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং আসিফ আকবর সেতু।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)