Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

মাঠভরা পাকা ধান, প্রতিকুল আবহাওয়া দুশ্চিন্তায় কৃষক

এম জামান এম জামান
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল,২০২৬, ০৭:২২ পিএম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল,২০২৬, ০৭:২৬ পিএম
মাঠভরা পাকা ধান, প্রতিকুল আবহাওয়া দুশ্চিন্তায় কৃষক

মাঠজুড়ে দুলছে সোনালি পাকা ধান। যশোর সদরের একটি মাঠ থেকে তোলা ছবি। ছবি: ধ্রুব নিউজ

মাঠজুড়ে দুলছে সোনালি পাকা ধান। কৃষকের চোখে স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নের মাঝেই ভর করেছে শঙ্কা। আকাশে কালো মেঘ, মাঝেমধ্যে বৃষ্টি আর কালবৈশাখীর আশঙ্কা কৃষককে ফেলছে চরম দুশ্চিন্তায়। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে যশোর অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। ধান কাটার উপযুক্ত সময় হলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কৃষি শ্রমিকের কাজ ব্যহত হচ্ছে। আবার খুব বেশি শ্রমিক সংকট রয়েছে ।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে যশোর জেলায় প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর অধিকাংশ ধান এখন কাটার উপযোগী হয়ে উঠেছে।

কিন্তু সময়মতো ধান ঘরে তুলতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

যশোর সদর উপজেলার ফুলবাড়ী গ্রামের কৃষক হারুন ও রশিদ জানান, এ বছর ধান নিয়ে তারা মারাত্মক অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। ৩ বিঘা জমিতে ধান চাষ করলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ১৫ কাঠা ধান কাটতে পেরেছেন। এরই মধ্যে আবহাওয়া খারাপ হয়ে পড়েছে।  পত্রপত্রিকা টেলিভিশন দেখছি আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসেও বৃষ্টি ও ঝড়ের ইঙ্গিত রয়েছে। ফলে মাঠে থাকা বাকি ধান নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে।

কেফায়েতনগর গ্রামের কৃষক মনসুর আলী বলেন,“কৃষকের জীবনে কষ্ট নতুন কিছু নয়। মাঠভরা ধান এখন একমাত্র ভরসা। কিন্তু আবহাওয়ার এই অনিশ্চয়তা আমাদের আতঙ্কে রাখছে। কখন কালবৈশাখী ঝড় এসে সব শেষ করে দেয়; সেই ভয়েই আছি। শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, আর পেলেও দিনে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। তারপরও অনেক সময় শ্রমিক মেলে না। সারের দাম বেশি, ধানের দাম কম—সব মিলিয়ে আমরা খুবই বিপদে আছি।”

মাঠে কাজ করা এক শ্রমিক জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অনেক ধান কাটা শেষ হয়ে যেত। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও বিরূপ পরিস্থিতির কারণে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে কৃষক ও শ্রমিক—দু’পক্ষই ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

এদিকে যশোর কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, কৃষকদের দ্রুত ধান ঘরে তোলার জন্য নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন,

“আমরা প্রতিনিয়ত মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি এবং কৃষকদের পাশে আছি। ইতোমধ্যে জেলার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে বাকি ধান ঘরে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”

তিনি আরও জানান, আজ থেকে আবহাওয়ার উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সময় হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টি হতে পারে। তাই কৃষকদের সতর্ক থেকে দ্রুত ধান কেটে নিরাপদে ঘরে তোলার আহ্বান করছি।

প্রকৃতির অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করেই এগিয়ে চলে কৃষকের জীবন। মাঠভরা সোনালি ধান যেন ঝড়-বৃষ্টিতে নষ্ট না হয়—এই আশাতেই দিন গুনছেন কৃষকরা।

ধ্রুব/এস.আই

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)