❒ সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত প্রশাসন
বিশেষ প্রতিনিধি
ধ্রুব নিউজ ছবি:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৭ এপ্রিল যশোরের উলাশী খাল খননে আসছেন। এদিন তিনি যশোরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্বোধন করবেন, যশোরের ঐতিহ্য ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করবেন এবং সব শেষে বিকেলে ঈদগাহ ময়দানে জনসভায় ভাষণ দেবেন। পুরো দিনটি তিনি যশোরে কাটাবেন ব্যস্ত সময়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটাই তার যশোরে প্রথম আগমন। দিনভর ব্যস্ত সময় পার করে তিনি সন্ধ্যার বিমানে ঢাকায় ফিরে যাবেন। ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর বতর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পিতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খাল খনন করেন এবং পরবর্তীতে সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি ছড়িয়ে দেন। সেই খাল বিগত সরকারের আমলে দীর্ঘ বছরের পর বছর অবহেলায় মৃত ও পানি সংরক্ষণের অনুপোযোগী হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী আসছেন সংস্কার ও পুনঃখননে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী যশোর থেকে শার্শার উলাশী পর্যন্ত বাসে এবং যশোরের অন্যস্থানগুলোতেও বাসে চলাচলা করবেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৯ টায় তিনি বিমানে ঢাকা করবেন। ফলে প্রশাসনের সর্বস্তরে প্রস্তুতি ও বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসন পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে সরকারি সংশ্লিষ্ট সবদপ্তে নানাবিধ কাজে ও প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। বাদ যায়নি জেলার মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির কার্যক্রমও। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে রোববার মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভাটিও পরিণত হয় প্রধানমন্ত্রীর আগমন, দিনভর কর্মের বিভিন্ন দিক, যশোরবাসী ও সরকারি দপ্তরগুলোর করণীয় সম্পর্কের আলোচনা ও প্রস্তুতি সভায়। জেলা কালেক্টরেট ভবনের অমিত্রাক্ষর সভাকক্ষে রোববার দুপুরে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্র্রেট মোহাম্মদ আশেক হাসান।
মাত্র ৭৪ দিনের মধ্যে এটি তারেক রহমানের যশোরে দ্বিতীয় সফর। এর আগে বিগত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচনী সভায় তারেক রহমান যশোরে এসছিলেন। এবার আসছেন দেশের প্রধানন্ত্রী হিসেবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন, দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন, খালখনন, জনসভায় যোগদান, মেডিকেল কলেজের হাসপাতাল উদ্বোধন এবং যশোর ্ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শনের সকল পর্যায়ে চলচলা পথ নির্ধারণ, নিরাপদ, শহর ও যশোর বেনাপোল সড়কের যানজট মুক্তরাখা, খাল খননেনর পর বৃক্ষ রোপণ, স্থানীয়দের সাথে কুশল বিনিময় সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য শেষে সরাসরি যশোর মেডিকেল কলেজে আগমনের বিভিন্ন দিক ও পস্তুতি নিয়ে মাসিক উন্নয়ন ও সমন্বয় সভায় ব্যপক আলেঅচনা হয়। সভায় জানানো হয়, সকালে প্রধানমন্ত্রী বিমান বন্দরে অবতরণ করেই সরাসরি র্শাশার উলাশী খাল খননে যাবেন বাসযোগে। এই চলাচলা, খাদ্যগ্রহণসহ সবধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, যশোর পৌরসভা, যশোর মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ, যশোর ও শার্শা, ঝিকরগাছার উপজেলা প্রশাসন। ২২ এপ্রিল থেকে সার্বিক নিরাপত্তায় কাজ করবে এসএসএফ। এর আগে সব দপ্তরকে তাদের সকল প্রস্তুতি শেষের নির্দেশনা দেয়া হয় সভা থেকে। আজ থেকে পৌরসভা প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের দুপাশের রাস্তা অবৈধ দখল মুক্ত করতে কাজ করবে। যশোর বেনাপোল সড়কেরও অবৈধ দখল ও অনিবন্ধিত দোকানপাঠ অপসারণের কাজও শুরু করবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। এছাড়া তাঁর বিশ্রাম ও অবকাশের জন্যেও প্রস্তুত রাখা হবে যশোরের সার্কিট হাউজ। সংগ্রহ করা হবে তার প্রিয় সবজি, দেশি মাছ, দেশি মুরগি, অর্গানিক ফুড, রাসায়নিক ও ক্ষতিকর খাবার না খাওয়ানো মাছ-মুরগি-সবজি থাকবে এ সব তালিকায়। প্রস্তুতি ও আন্তরিকতার কোনো কমতি যশোর প্রশাসন ও যশোরবাসী রাখতে চায় না বলেও সভায় জানানো হয়। প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, জেনারেটর ব্যবস্থা সাউন্ড ব্যবস্থাও থাকবে সব কটি স্পটে। এছাড়া শহরের ভিতর দিয়ে তাঁর চলাচলের জন্যে দুটি রাস্তা প্রস্তুত রাখা হবে। এরপর এসএসএফ ও প্রশাসনের সিদ্ধান্ত এবং ২৪ এপ্রিল বিদ্যুৎ জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও যশোর -৩ সদর আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সাথে পরার্শক্রমে চ’ড়ান্ত হবে সব কিছু। সভায় বিএনপির পক্ষ থেকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক দেলেঅয়ার হোসেন খোকন জানান, ২৫ তারিখের মধ্যে জনসভাস্থলসহ সার্বিবক প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। তিনি আশা করেন প্রধানমন্ত্রী যশোরবাসীকে নির্ববাচনী প্রতিশ্রতি অনুযায়ী নতুন বার্তাও দেবেন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা মাসুদ রানা, যশোর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. আবু হাসনাত মো. আহসান হাবীব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সুজন সরকার, পৌর প্রশাসক ও ডিডিএলজি রফিকুল হাসানসহ বিজিবি, র্যাব প্রতিনিধি. সব সরকারি দপ্তর প্রধানরা।