❒ পাম্পে কমেনি দীর্ঘ লাইন
নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর দেশজুড়ে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকার তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জনজীবনে। দাম বাড়লেও পাম্পগুলোতে তেলের জন্য যানবাহনের ভিড় কমেনি, বরং ভোগান্তি বেড়েছে কয়েক গুণ। একই সঙ্গে গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির সাথে নিত্য পণ্যের দাম বাড়ার শঙ্কায় শংকিত সাধারণ মানুষ।
আজ রোববার সকাল থেকে যশোরের বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন মোটরসাইকেল, বাস ও ট্রাকচালকরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কেউই চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না।
শনিবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দাম অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে চার ধরনের জ্বালানির দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।
বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকার। শনিবার মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হয় অকটেন, ডিজেলসহ চার ধরনের জ্বালানির দাম। প্রতি লিটার ডিজেলে ১৫ টাকা, কেরোসিনে ১৮, পেট্রোলে ১৯ এবং অকটেনে ২০ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে।
গণপরিবহনে এখন পর্যন্ত আগের ভাড়া অফিসিয়ালি বহাল থাকলেও বাস্তবে ভাড়া বেশি নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন রুটে। তেলের দাম বাড়ানোয় বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়ায় চরম প্রভাব পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভোগান্তি ও জনমনে ক্ষোভ
যশোরে জ্বালানি তেলের সংকটের মাঝেই এই বাড়তি দাম যেন 'মরার ওপর খাঁড়ার ঘা' হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরের মনিহার, পালবাড়ি ও মণিরামপুর মোড় সংলগ্ন পাম্পগুলোতে গিয়ে দেখা যায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় ব্যহত হচ্ছে স্বাভাবিক চলাচল, যার প্রভাব পড়ছে শহরের যানজট পরিস্থিতির ওপর।
পাম্পে অপেক্ষমাণ এক ট্রাকচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দাম তো বাড়ল, কিন্তু লাইনে দাঁড়ানো তো আর কমল না। একদিকে তেলের পেছনে বাড়তি টাকা যাচ্ছে, অন্যদিকে সময়ের অভাবে ট্রিপ মারতে পারছি না। আমাদের তো না খেয়ে মরার দশা।"
ভাড়া বৃদ্ধির শঙ্কা
জ্বালানির দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে পরিবহন খাতসহ নিত্য পণ্যের উপর। যদিও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা আসেনি, তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভাড়া বৃদ্ধি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। সকালেই খুলনাগামী একজন বাসযাত্রী ফিরোজা বেগম মুঠো ফোনে জানালেন ভাড়া বৃদ্ধির কথা। তিনি বলেন, আজ যশোর থেকে খুলনা যেতে ১৫০ টাকা বাস ভাড়া নিল। অথচ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আগে যশোর থেকে খুলনার বাস ভাড়া ছিল ১২০ টাকা। এছাড়া ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল, সাতক্ষীরাসহ অধিকাংশ রুটে দূরত্ব অনুযায়ী বাস ভাড়া বেশি নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
যশোরের মনিহার সেভেন স্টার পরিবহন কাউন্টারের ম্যানেজার আবুল কামাল আজাদ বলেন আগের ভাড়ায় এখনও বহাল আছে। তবে ভাড়া বাড়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। যেহেতু তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, সেহেতু ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়াটাই স্বাভাবিক। মালিকপক্ষ আলোচনা করে দ্রুতই নতুন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এদিকে সাধারণ যাত্রীরা বলছেন ভিন্ন কথা। অফিসগামী যাত্রী ও শিক্ষার্থীরা জানান, নিত্যপণ্যের দাম এমনিতেই চড়া, তার ওপর বাস ভাড়া বাড়লে সাধারণ মানুষের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। তারা জানান প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদারকি বাড়ানো না হলে পরিবহন মালিকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করতে পারেন—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত এই পরিস্থিতির সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন
ধ্রুব/এস.আই