ধ্রুব ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
গাজার উপকূলীয় সড়ক আল-রশিদ স্ট্রিট দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল একটি গাড়ি। সেই গাড়িতে ছিলেন সত্যের সন্ধানে ছুটে চলা এক যোদ্ধা—মোহাম্মদ উইশাহ। যান্ত্রিক গর্জন আর ইসরায়েলি ড্রোনের নিখুঁত নিশানায় সব ওলটপালট হয়ে গেল। মুহূর্তেই আগুনের গোল্লায় পরিণত হলো গাড়িটি, নিভে গেল আল জাজিরা মুবাশেরের সংবাদদাতা মোহাম্মদ উইশাহর জীবনপ্রদীপ।
আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক এই মৃত্যুকে স্রেফ ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে মানতে নারাজ। এক কড়া বিবৃতিতে তারা বলেছে, উইশাহকে লক্ষ্য করে হত্যা করা একটি জঘন্য অপরাধ। এটি সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার একটি ধারাবাহিক ও সুপরিকল্পিত নীতিরই প্রতিফলন। ২০১৮ সাল থেকে আল জাজিরায় যুক্ত হওয়া এই সাংবাদিক প্রথম দিন থেকেই গাজার গণহত্যা ও মানুষের আর্তনাদ বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরছিলেন। নেটওয়ার্কটির দাবি, তাকে ভয় দেখানো এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দিতেই এই ‘টার্গেট কিলিং’ করা হয়েছে।
নামকাওয়াস্তে যুদ্ধবিরতি চলছে প্রায় ছয় মাস। কিন্তু গাজা সিটির প্রধান সড়কে উইশাহর ওপর এই হামলা প্রমাণ করে যে, যুদ্ধবিরতি কেবল কাগজের কলমেই সীমাবদ্ধ। গাজা গণমাধ্যম দপ্তরের তথ্যমতে, গত অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় অন্তত ২৬২ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় ২,০০০ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আল জাজিরার প্রতিনিধি ইব্রাহিম আল-খলিলি জানাচ্ছেন, “উইশাহর মতো সংবাদিকদের বারবার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যারা যুদ্ধের শুরু থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে আসছেন।”
গাজা সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ফেডারেশন ও আরব সাংবাদিক ইউনিয়নকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তারা আন্তর্জাতিক আদালতে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছে এবং গাজায় সাংবাদিকদের সুরক্ষা দিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি কঠোর চাপ প্রয়োগের আবেদন জানিয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গাজায় এ পর্যন্ত ৭২,০০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এমনকি মার্কিন সমর্থিত যুদ্ধবিরতির ভেতরেও থমকে নেই মৃত্যু। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, যুদ্ধবিরতি চলাকালেও ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭৩৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সূত্র: আল-জাজিরা
ধ্রুব/এস.আই