ধ্রুব ডেস্ক
আজ বেলা ১১টায় রাজধানীর গুলশানে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠক শেষে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ছবি: ধ্রুব নিউজ
সংবিধানে সংস্কার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ৪ এপ্রিল রাজধানী ঢাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।
আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জামায়াতের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ৪ এপ্রিল বিকাল ৫টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
আজ বেলা ১১টায় রাজধানীর গুলশানে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠক শেষে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
১১ দলীয় জোট অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং একটি সংবিধান সংস্কার কাউন্সিল গঠনের দাবি জানিয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, এসব দাবি পূরণ না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। একইসঙ্গে জনমত গঠনে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচিরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আগামী ৭ এপ্রিল জোটের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে, যেখান থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
আজকের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগ করেন, গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনমতকে উপেক্ষা করে সরকার সংবিধান সংশোধনের চেষ্টা করছে। তিনি এই পদক্ষেপকে জনগণের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী বলে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের এখতিয়ার সংসদের থাকলেও সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করার ক্ষমতা কারো নেই। এ ধরনের পরিবর্তনের জন্য একমাত্র বৈধ পথ হলো গণভোটের মাধ্যমে সরাসরি জনমত নেওয়া এবং একটি সংবিধান সংস্কার কাউন্সিল গঠন করা।
হামিদুর রহমান আযাদ আরও অভিযোগ করেন, অতীতের সংবিধান সংশোধনীগুলো স্বৈরাচারী শাসনের পথ প্রশস্ত করেছিল এবং বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটছে। তিনি একতরফা সংশোধনীর পরিবর্তে গণভোটের রায়ের আলোকে সংস্কারের ওপর জোর দেন।
এছাড়া চলমান জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আংশিক অনলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে এই জোট। তাদের দাবি, অনলাইন ক্লাসের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।