নিজস্ব প্রতিবেদক
ভৈরব নদের পাড় দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানা এলাকায় ভৈরব নদের পাড় দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছে একটি অসাধু চক্র। জেলা প্রশাসন যখন অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে সরকারি জমি রক্ষায় তৎপর, ঠিক সে সময় প্রকাশ্য দিবালোকে এমন কর্মকাণ্ডে হতবাক শহরবাসী।
অভিযোগ উঠেছে, চক্রটি রীতিমতো জেলা প্রশাসকের নাম ভাঙিয়ে এই কাজ চালাচ্ছে। এমনকি জেলা প্রশাসক নিজেই এই স্থাপনা উদ্বোধন করবেন বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। নদের পাড় দখলের এই কর্মযজ্ঞের নেপথ্যে রয়েছেন যশোর শেখহাটির আলোচিত মাহাবুব ইসলাম মধু। উল্লেখ্য, ভেজাল মধু বিক্রির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর দুইটায় দড়াটানা ব্রিজের পাশে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীতে পাকা সিঁড়ি বাঁধানো হয়েছে এবং পাশেই একটি ঘর তৈরি করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদারকি করছেন সাংবাদিক পরিচয়ধারী মিলন নামের এক ব্যক্তি। সেখানে কাজের উদ্দেশ্য ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই স্থানীয়দের সাথে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান তিনি। তোপের মুখে মিলন দাবি করেন, যশোরের এক প্রভাবশালী সাংবাদিক নেতার সুপারিশে তারা নদীতে স্পিডবোট চালানোর অনুমতি পেয়েছেন।
এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি চিঠি দেখানো হয় যেখানে দেখা যায়, ‘বিসমিল্লাহ মধু ট্রেডিং’-এর মালিক মাহাবুব ইসলাম মধুকে কেবল নদীর কচুরিপানা পরিষ্কার করে স্পিডবোট ও ট্রলার চালানোর জন্য গত ১১ জানুয়ারি দুই মাসের সাময়িক অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ঢাকা রোড ব্রিজ থেকে কাঁঠালতলা ব্রিজ পর্যন্ত এই সীমানা নির্ধারিত ছিল। তবে শর্ত অনুযায়ী, গত ১১ মার্চ সেই অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও কেন অবৈধ নির্মাণকাজ চলছে, তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি মিলন।
এ বিষয়ে যশোরের জেলা প্রশাসক আশেক হাসান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন:
"নদীর জমি দখল করে স্থাপনা তৈরির কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের কোনো অনুমতি জেলা প্রশাসন দেয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
পানি উন্নয়ন বোর্ড, যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানান, শুধুমাত্র কচুরিপানা পরিষ্কার ও স্পিডবোট চালানোর জন্য শর্তসাপেক্ষে দুই মাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কোনো ধরনের সিঁড়ি বা ঘর নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং বর্তমানে ওই চিঠির কোনো বৈধতা নেই।
ভৈরব নদ সংস্কার আন্দোলন কমিটির নেতা জিল্লুর রহমান ভিটু বলেন, "একটি মহল পরিকল্পিতভাবে আবারো নদ দখলের চেষ্টা করছে। নদী খননের পর মুক্ত হওয়া জায়গা পুনরায় দখল হওয়া মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে আমরা কঠোর আন্দোলনে নামব।"
উল্লেখ্য, নদের পাড় দিয়ে বাইপাস সড়ক হওয়ার কথা থাকলেও প্রভাবশালী চক্রের এমন অবৈধ হস্তক্ষেপে বিঘ্নিত হচ্ছে সরকারি উন্নয়ন পরিকল্পনা।
ধ্রুব/টিএম