ধ্রুব ডেস্ক
বিশ্বরাজনীতির দাবার বোর্ডে এখন সব চাল তেহরানের পক্ষে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৫-দফার তথাকথিত 'শান্তি প্রস্তাব' ইরান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করার পর স্পষ্ট হয়ে গেছে একটি বিষয়—হুমকি বা লোকদেখানো কূটনীতি দিয়ে ইরানকে দমানো অসম্ভব। ওয়াশিংটন যখন তেহরানের সাথে আলোচনার জন্য মরিয়া হয়ে পথ খুঁজছে, তখন ইরানের এই অটল অবস্থান সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
এই সংকটে সবচেয়ে বড় চমক হয়ে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা। ইসলামাবাদ নিজেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরতে মরিয়া। এমনকি চীনের সমর্থন আদায়ে বেইজিংয়ে পাঁচ-দফা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে হাজির হয়েছেন পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পাকিস্তানের এই 'সক্রিয়তা' প্রতিবেশী দেশ ভারতের নীতিনির্ধারকদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। দিল্লির সাউথ ব্লকে এখন স্পষ্ট গুঞ্জন—ইরান ইস্যুতে কি তবে ভারত কোণঠাসা হয়ে পড়ছে?
ভারতের অভ্যন্তরেই এখন প্রশ্ন উঠছে, যে দেশটি নিজেকে 'গ্লোবাল সাউথ'-এর কণ্ঠস্বর দাবি করে, তারা কেন এই সংকটে নীরব? ভারত বিরোধী দল কংগ্রেস এই নীরবতাকে 'লজ্জাজনক' বলে আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞ চেলানির মতে, পাকিস্তান 'আখ্যানের যুদ্ধে' ভারতকে টেক্কা দিচ্ছে। ইরানের সাথে সুসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ভারতের এই পিছুটান কি তাদের ইসরায়েল-পন্থী নীতির ফল? বিশ্লেষকরা বলছেন, সার্বভৌমত্ব ও বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিয়ে যখন প্রশ্ন ওঠে, তখন ভারতের এই নিষ্ক্রিয়তা তাদের কৌশলগত পরাজয়েরই ইঙ্গিত দেয়।
পাকিস্তানের বিশ্লেষক এজাজ হায়দারের মতে, পাকিস্তান আজ এই গুরুত্ব পাচ্ছে কারণ তারা ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে। এই সামরিক ও কূটনৈতিক প্রভাবই ইরানকে আলোচনার টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে।
ইরানের এই অকুতোভয় কূটনীতি প্রমাণ করে যে, শক্তির ভারসাম্য আর কেবল পশ্চিমের হাতে নেই কিন্তু ইরান নিজের স্বার্থ রক্ষায় যেভাবে অটল রয়েছে, তা প্রশংসনীয়। ভারতের মতো উদীয়মান শক্তিগুলো যখন সুযোগ হারানোর ভয়ে ঈর্ষায় ভুগছে, তখন ইরান নিজের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজের শর্তে কথা বলছে। এই যুদ্ধ বা সংকট কেবল ইরানের শক্তিকেই প্রমাণ করছে না, বরং জানান দিচ্ছে —আগামীর বিশ্ব হবে বহুমুখী, যেখানে তেহরান থাকবে অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে।
ধ্রুব/এস.আই