কার্লো আনচেলত্তি ছবি: Getty Images Sport
জিলেট স্টেডিয়ামে ফ্রান্সের হুগো একিটিকে যখন দ্বিতীয় গোলটি করে ব্রাজিলকে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে দিলেন, গ্যালারিতে তখন উচ্চস্বরে ‘নেইমার’ ‘নেইমার’ স্লোগান শুরু হয়েছে। সেলেসাও কোচ কার্লো আনচেলত্তি হয়তো এই মুহূর্তটি কখনোই দেখতে চাননি, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এটিই ছিল অনুমেয়। ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে ছাড়াই দল ঘোষণা করার যে সাহসী সিদ্ধান্ত আনচেলত্তি নিয়েছিলেন, ফক্সবরোর এই হাই-প্রোফাইল প্রীতি ম্যাচের আগে থেকেই তা নিয়ে শুরু হয়েছিল ব্যাপক আলোচনা।
বৃহস্পতিবারের এই ম্যাচে ভিনিসিয়াস জুনিয়ররা যখন ১০ জনের ফ্রান্সের বিপক্ষেও গোল পেতে রীতিমতো সংগ্রাম করছিলেন, তখন গ্যালারিতে নেইমারের নাম প্রতিধ্বনিত হওয়াটা খুব একটা আশ্চর্যজনক ছিল না। তবে এই মুহূর্তে নেইমার মাঠে থাকলে খেলার ফলাফল বদলে যেত—এমন ধারণা কিছুটা হাস্যকরই মনে হতে পারে।
৩৪ বছর বয়সী নেইমার বর্তমানে ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার মতো ফিটনেস বা অবস্থায় নেই। তবুও ২০২৬ বিশ্বকাপের ঠিক দুই মাস আগে তাকে দলে ফেরানোর এই তীব্র দাবি একটি বিষয়ই স্পষ্ট করে দেয়—ব্রাজিল ফুটবল এখন কতটা গভীর সংকটে নিমজ্জিত। আগামী দুই মাস পরই নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে।
'ইতিহাসের সেরা কোচ' এবং রূঢ় বাস্তবতা
দীর্ঘ দুই বছরের অপেক্ষার পর ২০২৫ সালের ১২ মে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) ঘোষণা করেছিল, তারা অবশেষে তাদের কাঙ্ক্ষিত কোচকে খুঁজে পেয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসের সফলতম কোচ কার্লো আনচেলত্তি সেলেসাওদের দায়িত্ব নিতে রাজি হন। তখন সিবিএফ সভাপতি এডনাল্ডো রদ্রিগেজ এই নিয়োগকে কেবল একটি ‘কৌশলগত পদক্ষেপ’ নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে ফেরার ‘বিবৃতি’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
রদ্রিগেজ আত্মবিশ্বাসের সাথে ঘোষণা করেছিলেন, "তিনি ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ কোচ এবং এখন তিনি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দলের দায়িত্বে। আমরা একসাথে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের নতুন এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় লিখব।"
তবে বাস্তবতা এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ ভিন্ন। আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিলের যাত্রার এ পর্যন্ত পাওয়া গল্পটি কেবল সংগ্রাম আর অনিশ্চয়তায় ঘেরা। মাঠের পারফরম্যান্সে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না যা একটি আনন্দদায়ক সমাপ্তির ইঙ্গিত দেয়। বরং পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, বিশ্বকাপের পর আনচেলত্তি চুক্তি নবায়ন করবেন কি না তা নিয়ে আলোচনার চেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—তিনি আদৌ কতদিন টিকে থাকবেন। যে দীর্ঘ সময় ব্যয় করে সিবিএফ তাকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল, তার চেয়েও কম সময়ে তার বিদায়ঘণ্টা বেজে যাওয়ার জোরালো আশঙ্কা এখন ফুটবল মহলে।