Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

কনের গায়েহলুদের পর এল বরের মৃত্যুর খবর

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : সোমবার, ২৩ মার্চ,২০২৬, ০৭:১০ পিএম
কনের গায়েহলুদের পর এল বরের মৃত্যুর খবর

ছবি: প্রতীকী

ঈদের দিন সন্ধ্যায় মহা ধুমধামে কনের গায়েহলুদ সম্পন্ন হয়। রোববার (২২ মার্চ) সকালে বরের গায়েহলুদের কথা ছিল। কিন্তু এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বাড়িতেই বিয়ের উৎসবের পরিবর্তে শুরু হয়েছে মাতম।

রোববার (২২ মার্চ) বরের গায়েহলুদ অনুষ্ঠানের পায়েস রান্না করার জন্য বর নিজেই গাড়ি চালিয়ে দুধ আনতে যাচ্ছিলেন। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তার প্রাইভেট কারটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পাশে দাঁড়ানো ট্রাকে লেগে দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

কনের নাম অন্তরা খাতুন। তিনি বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পড়া শেষে সেখানেই ইন্টার্নশিপ করছেন। তার বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চণ্ডীপুর বড় ছয়ঘটি গ্রামে। বর প্রকৌশলী জুলফিকার ইসলাম জিল্লুর রহমানের সঙ্গে কনে অন্তরার বিয়ের দিন সোমবার (২৩ মার্চ)। বর জুলফিকার পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া নওদাপাড়া গ্রামের আনসারুল মুন্সির ছোট ছেলে।

কনের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অন্তরা খাতুনের পিতা ২২ বছর আগেই দুরারোগ্য ব্যধিতে মারা গেছেন। সেই থেকে মা রওশন আরা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ শুরু করেন। একমাত্র ভাই সোহেল রানা রাজমিস্ত্রির কাজ করে ছোট বোনকে লেখাপড়া করান। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে অন্তরা সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পান। সেসময় র‌্যাব-৫ এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মারুফ হোসেন খান অন্তরাকে মেডিকেলে ভর্তির টাকা দেন। সেই সহায়তাতেই মেডিকেলে ভর্তি হয়ে এমবিবিএস শেষ করে বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ করছেন। 

তার বিয়ে ঠিক হয়েছিল পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া নওদাপাড়া গ্রামের আনসারুল মুন্সির ছোট ছেলে প্রকৌশলী জুলফিকার ইসলাম জিল্লুর রহমানের সঙ্গে। রোববার জুলফিকারের গায়েহলুদের অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠানের পায়েস রান্না করার জন্য তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে দুধ আনতে দাশুড়িয়া থেকে নাটোর যাচ্ছিলেন। সকাল আটটায় নাটোর হাইওয়ে গড়মাটি কলোনি রোডে তার প্রাইভেট কারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পাশে দাঁড়ানো ট্রাকে লেগে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এদিকে শনিবার রাতেই অন্তরার গায়েহলুদের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। বরপক্ষের লোকজন এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে অন্তরাকে মিষ্টিমুখ করে আসেন।

বন্ধন ডেকোরেটরের মালিক হৃদয় আহমেদ বলেন, বিয়ের জন্য সম্পূর্ণ প্যান্ডেল সাজানো হয়েছিল। তার প্যান্ডেলে বসে কনের মুখে ক্ষীর দেওয়া হয়েছে। বরের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর বাড়ির সবাই সেখানে চলে গেছেন। এই অবস্থায় বিয়ের প্যান্ডেল দেখে কেউ সহ্য করতে পারছিলেন না। তাই তিনি প্যান্ডেল ভেঙে নিচ্ছেন।

অন্তরা খাতুনের চাচি রোজিনা বেগম বলেন, রাতে বরপক্ষের লোকজন এসে মেয়েকে মিষ্টিমুখ করে গেছেন। স্থানীয় লোকজন মেয়ের মুখে ক্ষীর দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, এমন সময় বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির কারণে তারা সকালে ক্ষীর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সকাল আটটার দিকেই খবর চলে আসে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তরার বর মারা গেছেন। তখন বিয়ের উৎসবে শুরু হয় মাতম।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, সোমবার নিহত প্রকৌশলীর বিয়ের কথা ছিল। বিয়ের আগের দুর্ঘটনায় মৃত্যুর বিষয়টি খুবই বেদনাদায়ক। আইনি প্রক্রিয়া মেনে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)