রমজান আলী, বেনাপোল
ছবি: সংগৃহীত
দাম চাওয়া হচেছ কেজিতে বিক্রি করছে পিসে। মাঝারি সাইজের চার কেজি ওজনের এক পিস তরমুজ ৯০ টাকা কেজি দরে কিনতেই চলে যাছে ৩৬০ টাকা। আর একহালি লেবু ৮০টাকা। বাজারের ব্যাগ খালি পকেট শূন্য। বেনাপোলে রমজানের বাজারের তেজ যেন কমছেই না।
বেনাপোল বাজারে তরমুজের দাম শুনে এভাবেই চোখ কপালে তুলছিলেন সাধারণ এক ক্রেতা। পিস হিসেবে নয়, কেজি দরে তরমুজ বিক্রির এই নতুন ‘সিস্টেম’ আর আকাশচুম্বী দামের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে ইফতারের ফল এখন এক আতঙ্কের নাম।
পবিত্র রমজান মাসে সংযমের বদলে বেনাপোলের বাজারে এখন অসাধু সিন্ডিকেটের রাজত্ব। বাজারে আসা ক্রেতাদের সবচেয়ে বড় ধাক্কা দিচ্ছে তরমুজ। খুচরা বিক্রেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তরমুজ কেটে বা পিস হিসেবে নয়, বরং আস্তই নিতে হবে এবং তা কেজি দরে। বর্তমানে কেজিপ্রতি দাম হাঁকা হচ্ছে ৯০ টাকা। অর্থাৎ, গড়ে ৪ কেজি ওজনের একটি মাঝারি সাইজের তরমুজ কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৩৬০ টাকা।
শুধু তরমুজ নয়, ইফতারের অবিচ্ছেদ্য অংশ কাগুজে লেবুর দামও আকাশচুম্বী। বর্তমানে প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, যার অর্থ একটি ছোট লেবুর দাম পড়ছে ২০ টাকা। লেবুর শরবত দিয়ে ইফতার শুরু করা এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক অলীক স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে শসার দামও কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়ে বাজারকে আরও অস্থির করে তুলেছে।
সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এই দাম বাড়াচ্ছে। তাদের দাবি, বাজারে প্রশাসনের কার্যকর মনিটরিং এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা এই সুযোগ নিচ্ছেন। তদারকি না থাকায় খুচরা ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, এগুলো মৌসুমের আগাম ফল এবং সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি। তবে ক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ যায় হোক, কেজি দরে তরমুজ বিক্রি এবং এক পিস লেবু ২০ টাকা হওয়া কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না।