এম জামান
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাফফাত আরা সাঈদ যশোর সদরের লেবুতলা ও ইছালি ইউনিয়নের ১০টি গ্রামীণ সড়কের উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করেন। ছবি: ধ্রুব নিউজ
গ্রামীণ জনপদে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে অনিয়ম ও গাফিলতি রোধে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাফফাত আরা সাঈদ। কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) ও কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) প্রকল্পের কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি নিজেই রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে পায়ে হেঁটে মাঠ পর্যায়ের কাজের মান তদারকি করছেন।
আজ সোমবার (২ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাফফাত আরা সাঈদ যশোর সদরের লেবুতলা ও ইছালি ইউনিয়নের ১০টি গ্রামীণ সড়কের উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কেবল ওপর থেকে কাজ দেখেই ক্ষান্ত হননি, বরং সড়কের বিভিন্ন অংশের ইট খুলে বালু ও খোয়ার মান পরীক্ষা করেন। কোথাও কোনো বিচ্যুতি বা নিম্নমানের কাজ চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে তা পুনরায় সঠিকভাবে করার কঠোর নির্দেশ দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাফফাত আরা সাঈদ স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, ‘জনগণের করের টাকায় পরিচালিত উন্নয়নমূলক কাজে কোনো ধরনের ফাঁকিবাজি বরদাশত করা হবে না। প্রতিটি ইটের মান এবং কাজের গভীরতা পরীক্ষা করে তবেই বিল পরিশোধ করা হবে। যেখানেই ত্রুটি পাওয়া যাবে, সেখানেই পুনরায় কাজ করতে হবে।’
প্রশাসনের এমন কড়াকড়ি অবস্থানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ও সন্তোষ দেখা দিয়েছে। আন্দলপোতা গ্রামের বাসিন্দা আজাদ আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, আগে জানতাম না সরকারি কাজের তদারকি এমনভাবে হয়। আজ দেখলাম ইউএনও ম্যাম নিজে এসে রাস্তার ইট উঠিয়ে মান যাচাই করছেন। এতে ভবিষ্যতে কেউ আর নিম্নমানের কাজ করার সাহস পাবে না।
একই সুর শোনা গেল স্থানীয় বাসিন্দা বিপুল ইসলামের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ইউএনও ম্যাম দুইবার আমাদের এলাকায় এসেছেন। কাজ বুঝে নেওয়ার এই পদ্ধতি আমাদের আশাবাদী করছে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন লেবুতলা ইউনিয়নের প্রশাসক তারিকুল ইসলাম এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ইয়ারুল হক। পিআইও ইয়ারুল হক জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চলমান প্রকল্পগুলোর মান যাচাইয়ে নিয়মিত এই ভিজিট অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সদর প্রশাসনের এই তৎপরতা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে এক নতুন জবাবদিহিতার নজির সৃষ্টি করছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া কোনো ঠিকাদার বা সংশ্লিষ্ট পক্ষ বিল পাবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রশাসন।
অভিযানকালে পিআইও অফিসের কার্যসহকারী মর্তুজা, অফিস সহায়ক সুজন এবং মহিলা ইউপি সদস্য মুক্তা খাতুনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।