ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
ছবি: পিএমও
দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মতো এবারও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে দেশের সাধারণ মানুষ ও শ্রমিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে উপযুক্ত জবাব দেবে।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার প্রাক্কালে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে নানা কল্যাণমুখী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। একটি কুচক্রী মহল দেশের এই অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে নানামুখী ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। জনগণের এই সরকারকে ব্যর্থ করতে এবং দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন রোধ করতেই তারা মিল-কারখানায় বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে।
ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "আজ সময় এসেছে দেশ গড়ার, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার। কোনো ষড়যন্ত্রকারীকে আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না। দেশের খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে আমরা সব ষড়যন্ত্র দাঁতভাঙা জবাব দিয়ে রুখে দেব। আমাদের একটাই অঙ্গীকার—'করব কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ'।"
বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা গত ১৫-১৬ বছর ধরে দেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছে, জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে এবং দেশের কোনো উন্নয়ন করতে পারেনি—তারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে তারা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নেড়ে দেশের ভেতরে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
মিল-কারখানা ধ্বংসের অপতৎপরতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই মিল-কারখানাগুলো কোনো ব্যক্তিবিশেষের নয়; এগুলো দেশের সম্পদ, এ দেশের খেটে খাওয়া শ্রমিকদের সম্পদ। কারখানাগুলো ধ্বংস হলে সবার আগে ক্ষতিগ্রস্ত হবে শ্রমিক ভাই-বোনেরা এবং তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।
শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক ভাই-বোনদের নায্য দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড তাদের কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে এবং আগামী এক-দুই মাসের মধ্যেই নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে, যাতে শ্রমিকরা আরও ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারেন।
বর্তমান সরকার দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি মিল-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে, যার মাধ্যমে দেশের তরুণ ও যুব সমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
খুলনা অঞ্চলের সোনালী দিন ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় খুলনা ছিল দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার শুধু খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা নয়, বরং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে শুরু করে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চায়।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী মোংলায় 'ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ' এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান 'চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন'-এর (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
কাটাখালীর পথসভা শেষে তিনি হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন এবং পরবর্তীতে খুলনায় 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।