আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন এক ইতিহাস রচিত হলো। মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে লড়াই করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ (Abdul El-Sayed)। এক তীব্র লড়াইয়ের পর তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থিত রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন। আগামী ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সিনেটর হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন।
নির্বাচনী প্রচারণার পুরো সময়জুড়ে রিপাবলিকান শিবির ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে তীব্র ব্যক্তিগত আক্রমণ ও গালিগালাজের শিকার হয়েছেন ৪০ বছর বয়সী এই প্রগতিশীল মহামারী বিশেষজ্ঞ। নির্বাচনের ঠিক কয়েক দিন আগে আইওয়া রাজ্যে এক নির্বাচনী সভায় ডোনাল্ড ট্রাম্প আবদুল এল-সাইয়েদকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় মন্তব্য করেন। ট্রাম্প তাকে "জিহাদি পাগল" (Jihadist lunatic) এবং "কমিউনিস্ট" হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এছাড়া নির্বাচনী র্যালিতে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, এল-সাইয়েদ যদি সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হন, তবে তিনি হবেন একমাত্র সিনেটর যাকে নিরাপত্তা পরীক্ষার জন্য "মেটাল ডিটেক্টরের" ভেতর দিয়ে ভেতরে ঢুকতে হবে। ট্রাম্পের এমন ইসলামোফোবিক ও বর্ণবাদী মন্তব্যের জবাবে তাৎক্ষণিকভাবে কড়া প্রতিউত্তর দেন আবদুল এল-সাইয়েদ। এক ভিডিও বার্তায় তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, "আমি সানন্দে মেটাল ডিটেক্টরের মধ্য দিয়ে যাব, যদি আপনি লাই-ডিটেক্টর (মিথ্যা শনাক্তকরণ যন্ত্র) পরীক্ষার মুখে বসেন। আর আমার প্রথম প্রশ্নই হবে জেফরি এপস্টাইনকে নিয়ে।"
নির্বাচনী ফলাফলে ট্রাম্প সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে জয় সুনিশ্চিত করার পর, নিজের ঐতিহাসিক বিজয় ভাষণে এল-সাইয়েদ ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের খোঁচা দিয়ে ট্রাম্পের সাবেক বক্তব্যের জবাব দেন। তিনি বলেন, "মিশিগানের মানুষ ঘৃণা নয়, আশা বেছে নিয়েছে। ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের বলি— হাবিবি, এখন থেকে আমাকে 'সিনেটর' বলে ডাকবেন।"
কে এই আবদুল এল-সাইয়েদ?
মিশিগানে জন্মগ্রহণকারী মিশরীয় বংশোদ্ভূত আবদুল এল-সাইয়েদ পেশায় একজন প্রখ্যাত এপিডেমিওলজিস্ট (মহামারী বিশেষজ্ঞ) ও জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তিনি ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন। মাত্র ৩০ বছর বয়সে ডেট্রয়েট শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি আলোচনায় আসেন। এর আগে তিনি প্রগতিশীল এজেন্ডা, যেমন সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা (Medicare for All) নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ ভোটারদের ব্যাপক সমর্থন লাভ করেন।
মার্কিন উচ্চকক্ষ সিনেটে দীর্ঘকাল ধরে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের যে অভাব ছিল, মিশিগান থেকে আবদুল এল-সাইয়েদের এই ঐতিহাসিক জয় সেই ঘাটতি পূরণ করে মার্কিন রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।