আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ডোনাল্ড ট্রাম্প ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির আসন হারানোর পেছনে ইরান যুদ্ধের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি এর একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল ইরান। তবে একই সঙ্গে মানুষ এটাও বুঝতে পেরেছে যে ইরানের বিষয়ে আমি যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছি, তার গুরুত্ব কতখানি। ঐতিহাসিকভাবে আজকের সন্ধ্যার চেয়েও এটি অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ; কারণ বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসী পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া যায় না।’
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণাকালে ইরান যুদ্ধ ছিল অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয়। বিশেষ করে বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে অনেক আমেরিকান নাগরিক মনে করেছিলেন যে, ইসরায়েলের সঙ্গে মার্কিন সামরিক হামলায় যুক্ত হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা ছিল না। এমনকি টাকার কার্লসনের মতো প্রভাবশালী রক্ষণশীল ব্যক্তিত্বদের দলীয় অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ানো ট্রাম্পের নিজস্ব সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যেও বেশ মতবিরোধ তৈরি করেছিল।
নির্বাচনের অপ্রত্যাশিত ফলে হতাশা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কিছুটা অবাক হয়েছি। আমি ভেবেছিলাম আমাদের প্রার্থীরা আরও ভালো করবে।’ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্য অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা ইতোমধ্যে ৫২টি আসন নিশ্চিত করে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ দখল করেছে এবং প্রতিনিধি পরিষদেও ১৯৩টি আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে রয়েছে।
নির্বাচনের আগের প্রচারণা প্রসঙ্গে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ‘আমাদের বিশাল সব জনসভা হয়েছিল। প্রায় ৩০টি বড় সমাবেশে মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। হলের ভেতরে তিল ধারণের জায়গা ছিল না, আর বাইরে হাজার হাজার মানুষ ভেতরে প্রবেশ করতে না পেরে অপেক্ষা করেছে। আমি ভেবেছিলাম এই বিশাল জনসমর্থনকে প্রার্থীদের পক্ষে বাক্সে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।’
কিছু রিপাবলিকান প্রার্থী জয়ী হলেও সাউথ ক্যারোলাইনার ফলাফল নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের বোন ডারলিন গ্রাহাম এই নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি। লিন্ডসের মৃত্যুর পর ডারলিনকে ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ডারলিন একই সঙ্গে গভীর শোক ও কঠিন প্রচারণা সামলেছেন, যা সত্যিই দুঃখজনক।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ট্রাম্পের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। শুরুতে তিনি দাবি করেছিলেন যে ব্যালটে তার নাম থাকলে রিপাবলিকানরা ভূমিধস বিজয় অর্জন করত, যার প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছিল হোয়াইট হাউসের বক্তব্যেও। তবে পরবর্তীতে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানান যে, তিনি এই নির্বাচনী ফলাফল মেনে নিচ্ছেন।
প্রেসিডেন্সির শেষ দুই বছরে ডেমোক্র্যাটরা যদি কংগ্রেসের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়, তবে নিজের ভবিষ্যৎ কৌশলের কথাও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি কঠোর অবস্থান নিয়ে ‘মিস্টার ভিটো’ হয়ে ওঠার এবং তার টেবিলে আসা প্রতিটি বিরোধপূর্ণ আইন বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। এমনকি ভোট গণনা চলাকালীন তিনি নিজের একটি ছবি শেয়ার করেন, যেখানে তাকে ‘ভিটো’ লেখা একটি লাল টুপি পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। এর মাধ্যমে ওভাল অফিস থেকে আগামী দিনে কী ধরনের রাজনৈতিক লড়াই আসতে পারে, তারই আগাম বার্তা দিয়ে রাখলেন মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট।