Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

রামলীলায় এত বড় সমাবেশ কীভাবে ঘটাল ইন্ডিয়া জোট, কী বলছে বিজেপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : সোমবার, ২ নভেম্বর,২০২৬, ০২:০৪ পিএম
রামলীলায় এত বড় সমাবেশ কীভাবে ঘটাল ইন্ডিয়া জোট, কী বলছে বিজেপি

রামলীলা ময়দানে বিশাল জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাগড়ে। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানের জনসভা সফল না ব্যর্থ, বিরোধীদের দাবি অনুযায়ী ভিড় আসল না নকল, তা নিয়ে শুরু হয়ে গেল বিতর্ক। ভারতের শাসক দল বিজেপি ভিড় নিয়ে প্রশ্নই শুধু তোলেনি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অভিযোগ করেছেন, নকল ভিড় দেখাতে কংগ্রেস নেতৃত্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্য নিয়েছে। কিন্তু তাও সেটি নাকি তারা ঠিকমতো করতে পারেনি।

রিজিজু এই দাবি জানিয়ে কংগ্রেস নেতাদের পাঠানো জমায়েতের ছবি দেখিয়ে কটাক্ষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ভিড় দেখাতে এআইয়ের ব্যবহারটাও তারা ঠিকঠাক করতে পারেনি।

শুধু রিজিজুই নন, বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্রও ভিড়ের দাবি নিয়ে মুখ খুলেছেন। গতকাল রোববার সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বলেন, কংগ্রেস বলেছিল ১০ লাখ লোক আনবে। অথচ এসেছে বড়জোর ২৮ হাজার।

রামলীলা ময়দানের জনসভার মঞ্চে (ডান থেকে বাঁয়ে) কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাগড়ে, কংগ্রেসের পার্লামেন্টারি পার্টি চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী, তৃণমূল প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ ইন্ডিয়া জোটের নেতারা।

বিজেপি মুখপাত্র তাঁর দাবির সমর্থনে একটি ভিডিও ক্লিপ দেখিয়েছেন, যেটিতে দেখা যাচ্ছে, সাদা কাপড়ে মোড়া কয়েক শ চেয়ার খালি পড়ে রয়েছে। কিছু মানুষ অলসভাবে হাঁটাচলা করছে। ভিডিওটি দেখে বোঝা যাচ্ছে, সেটি সন্ধ্যাবেলায় তোলা।

রোববার রামলীলা ময়দানের সভা শেষ হয় বিকেল সাড়ে চারটায়। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছিল, জনসভা বিকেল পাঁচটার মধ্যে শেষ করে ময়দান খালি করে দিতে হবে। রাতে রামলীলা ময়দানে কাউকে থাকতে দেওয়া হবে না।

কিরেন রিজিজু যে ছবিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, সেটি রোববার রাতে ‘এক্স’ মাধ্যমে পোস্ট করেন গুজরাটের সাবেক কংগ্রেস সংসদ সদস্য জগদীশ ঠাকোর ও তেলেঙ্গানার কংগ্রেস সংসদ সদস্য বামসি গদ্দামদের মতো কয়েকজন নেতা। রামলীলা ময়দানের মঞ্চ ও ভিড়ের যে ছবি দেওয়া হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, মঞ্চের একদিকে রয়েছে সোনিয়া গান্ধীর বিরাট ছবি, অন্যদিকে রাহুল গান্ধীর।

রিজিজুর দাবি, রোববারের রামলীলার মঞ্চ ছিল আলাদা। ওই সমাবেশে রামলীলা ময়দানে কংগ্রেসসহ বিভিন্ন বিরোধী দলের পতাকা হাতে মানুষ এসেছিলেন। অথচ ‘নকল’ ছবিতে দেখা যাচ্ছে শুধুই কংগ্রেসের পতাকা। রিজিজু তাই কটাক্ষ করে বলেছেন, কংগ্রেস নকলটাও ঠিকমতো করতে পারেনি।

রিজিজুর কটাক্ষ ও বিতর্কিত সেই ছবি নিয়ে কংগ্রেস কোনো মন্তব্য করেনি। রোববার বিক্ষোভ সমাবেশে ভিড় না হওয়ার দাবিও মানেনি। রাহুল গান্ধী বরং ড্রোন মারফত বিপুল জমায়েতের ভিডিও পোস্ট করেছেন। ভোট চুরির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে রেকর্ড সংখ্যায় জনসমাগমের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, বোঝা যাচ্ছে গণতন্ত্রই জয়ী হবে, সত্যের জয় হবে, ‘ইন্ডিয়া’র জয় হবে।

রাহুলকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র। বলেছেন, এসব ছবি তোলার কারসাজি। কারসাজি করে কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন না।

রোববারের বিক্ষোভ সমাবেশ অবশ্য সর্বার্থে বর্ণময় ছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যম রোববারের ওই সমাবেশের যে লাইভ সম্প্রচার করে, তাতে রামলীলা ময়দান ছিল পুরোপুরি ভরা। ময়দানের ঘেরাটোপের বাইরেও ছিল প্রচুর ভিড়। তাঁরা ঢুকতে পারেননি।

বেশ কয়েকজন কংগ্রেস নেতার বরাত দিয়ে সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিক হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, এই সমাবেশে আসার জন্য কংগ্রেস নেতৃত্ব অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিল। তেলেঙ্গানার এক কংগ্রেস নেতা বলেছেন, রাজ্যের নেতাদের বলা হয়েছিল, প্রত্যেককে এক শ জন কর্মী সমর্থককে দিল্লি আনতে হবে। দিল্লিতে বিভিন্ন এলাকার হোটেলে তাঁদের থাকার বন্দোবস্ত আগে থেকে করা হয়েছিল।

গত রোববার কনট প্লেস ও মিন্টো রোডের ক্রসিং থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে রামলীলা ময়দানে যাওয়ার রাস্তাটিও দুই ঘণ্টা ধরে বর্ণময় হয়ে উঠেছিল। রঙিন পতাকা ছাড়াও দেখা যায়, মিছিলকারী নারী–পুরুষ তাঁদের রাজ্যের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য মেলে ধরেছেন। ঝাড়খন্ড, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাটের আদিবাসীরা ঐতিহ্যগত পোশাক পরে ঢাকঢোল ও বাঁশি নিয়ে গান গাইতে গাইতে মিছিলে অংশ নেন।

ছত্তিশগড়ের নেতা রামনারায়ণ সিং রাথিয়া জানিয়েছেন, এসব আদিবাসী মানুষজন আগেই দিল্লি এসেছেন। মিছিল করে রামলীলা ময়দানে যাওয়া ছাড়াও তাঁরা দিল্লি ঘুরে দেখেছেন। অধিকাংশেরই এই প্রথম দিল্লি আসা।

স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের এই সমাবেশ সফল করে তুলতে কংগ্রেস চেষ্টার ত্রুটি রাখেনি। প্রতিটি রাজ্য নেতৃত্বকে তারা এ জন্য বাড়তি দায়িত্ব দিয়েছিল। এই আন্দোলন উপলক্ষে কংগ্রেস নেতৃত্ব দলের বিভিন্ন শাখাকেও চাঙা করে তুলেছে।

অনেক দিন পর এই সমাবেশ ঘিরে কংগ্রেস সেবাদলের উপস্থিতিও দেখা গেছে। ‘ইন্ডিয়া’ জোট এমন জনসভা বিভিন্ন রাজ্যে করবে। যে রাজ্যে যে দল বেশি শক্তিশালী, জনসমাবেশের প্রধান দায়িত্ব নেবে সেই দল। যেমন দিল্লির রামলীলা সমাবেশ আয়োজনের দায়িত্ব ছিল কংগ্রেসের।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)