ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
প্রকাশিত হলো বহুল প্রতীক্ষিত ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল। এবারের ফলাফলে সামগ্রিক পাসের হার কিছুটা কমলেও ক্রীড়াঙ্গনের তারকা শিক্ষার্থীদের সাফল্যে বইছে আনন্দের হাওয়া। খেলাধুলা ও পড়াশোনার কঠিন চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে সামলে দেশের হয়ে মাঠ মাতানো অনেক কৃতি খেলোয়াড়ই উচ্চ মাধ্যমিকে চমৎকার সাফল্য অর্জন করেছেন।
বাংলাদেশ জাতীয় নারী হকি দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য সদস্য যমজ বোন হিমাদ্রী বড়ুয়া ও নিলাদ্রী বড়ুয়া বিকেএসপি থেকে সাফল্যের সঙ্গে এইচএসসি পাস করেছেন। ব্যস্ত জাতীয় ক্যাম্পের ধকল সামলে হিমাদ্রী অর্জন করেছেন কাঙ্ক্ষিত জিপিএ-৫। অন্যদিকে, অল্পের জন্য জিপিএ-৫ মিস করলেও ৪.৮৩ পেয়ে দারুণ খুশি নিলাদ্রীও।
পরীক্ষার ঠিক আগে জাতীয় দলের ক্যাম্পে ব্যস্ত থাকায় সেভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাননি—এমনটাই জানালেন নিলাদ্রী। ফল প্রকাশের পর তিনি বলেন, ‘ভালোভাবে প্র্যাকটিস করার কারণে সেভাবে পরীক্ষা দিতে পারিনি। বড় কোনো প্রত্যাশাও ছিল না, তবে এই ফল দেখে সত্যি খুব ভালো লাগছে।’ খেলাকে প্রধান অগ্রাধিকার দিলেও পড়াশোনা নিয়েও রয়েছে তাঁদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। হিমাদ্রী নিজের ভবিষ্যৎ লক্ষ্যের কথা জানিয়ে বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে। এখন ঢাকায় ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাই।’ উল্লেখ্য, বিকেএসপি থেকে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া ৭ জনের মধ্যে ৬ জনই এবার সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
টিটির রানি খ্যাত খই খই সাই মারমা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে 'এ' গ্রেড (৪.৬৭) পেয়ে এইচএসসি উত্তীর্ণ হয়েছেন। খেলা এবং পড়াশোনা সমান্তরালে চালিয়ে যাওয়ার কঠিন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসলেই একসঙ্গে দুটি কাজ চালানো খুব কঠিন ছিল। পরীক্ষার কারণে দল নির্বাচন বা সিলেকশনে থাকতে পারিনি, যার ফলে বড় দুটি গেমস মিস করতে হয়েছে। তবে অপ্রত্যাশিত এই ফল পেয়ে আমি ভীষণ আনন্দিত।’ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় খই খই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
টিটি ডিসিপ্লিন থেকে খই খই ছাড়াও জুনিয়র ন্যাশনাল টিমের রেশমি তঙচঙ্গা, ঐশি রহমান, নাফিস ইকবাল ও আবুল হাসেম হাসিব সফলতার সঙ্গে পাস করেছেন।
বসুন্ধরা কিংস ও জাতীয় ফুটবল দলের উদীয়মান গোলকিপার মেহেদী হাসান শ্রাবণ বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ঐচ্ছিক বিষয়সহ জিপিএ ৪.৭১ (ঐচ্ছিক ছাড়া ৪.৪৬) অর্জন করেছেন। এছাড়া জাতীয় অনূর্ধ্ব-২০ দলের গোলকিপার ইসমাইল হোসেন মাহিন মানবিক বিভাগ থেকে ৪.২৫ পেয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে কৃতকার্য হয়েছেন।
গত বছর এক বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিলেন জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার মারুফা আক্তার। তবে দমে যাননি তিনি। এবার অনিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে নিজের জেদের প্রমাণ দিয়েছেন।
এদিকে বিকেএসপির ক্রিকেট বিভাগের জন্য দিনটি ছিল শতভাগ অর্জনের। মেয়েদের ক্রিকেট দলের ১১ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছেন। অন্যদিকে ছেলেদের ১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৫ জন কৃতকার্য হয়েছেন, যার মধ্যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন অভিজিত কুমার দাস।
এ বছর দেশজুড়ে উচ্চমাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২.১২ শতাংশ, যা গত বছর (২০২৫ সালে) ছিল ৫৮.৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় পাসের হার ৬.৭১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বেলা ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল প্রকাশ করেন। সামগ্রিক পাসের হার কমলেও দেশের ক্রীড়াঙ্গনের তারকাদের এই দ্যুতিময় সাফল্য তরুণ প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য বড় এক অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।