ঝিকরগাছা প্রতিনিধি
যশোরের ঝিকরগাছায় প্রবাসী মো. হাবিবুর রহমানের নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান মালামাল আত্মসাতের অভিযোগে কনক আক্তার নামে এক নারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন হাবিবুর রহমানের ভাই সাইদুল ইসলাম। এ মামলায় প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে। একই ঘটনায় মালামাল ও অর্থ উদ্ধারে সার্চ ওয়ারেন্ট চেয়ে পৃথক আরেকটি মামলা করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত কনক আক্তার অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।
আদালতে দায়ের করা নালিশি বিবরণী সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রবাসী হাবিবুর রহমানের সঙ্গে কনক আক্তারের বিয়ে হয়। পরে ২০২৪ সালের ৬ মার্চ তালাক দেওয়া হলেও বিষয়টি স্বামীর কাছে গোপন রেখে কনক দীর্ঘদিন তাঁর বাসায় অবস্থান করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বাসা থেকে চাবি, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র, স্বর্ণালংকার, পোশাক-পরিচ্ছদ, ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ও ভাড়ার টাকাসহ বিভিন্ন হিসাবের প্রায় ৩৩ লাখ টাকার মালামাল ও অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর ভ্যানে করে বাসা থেকে মূল্যবান মালামাল ও নগদ অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
নালিশি বিবরণীতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২ অক্টোবর সাইদুল ইসলাম কনক আক্তারের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে ফিরিয়ে আনতে চাইলে তিনি তালাকের বিষয়টি জানান এবং ফিরতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় টাকা ও মালামাল ফেরত চাইলে বাদী ও সাক্ষীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ঝিকরগাছা আমলি আদালতে পেনাল কোডের ৪০৬/৪২০/৫০৬(২) ধারায় একটি মামলা এবং যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৮ ধারায় সার্চ ওয়ারেন্ট চেয়ে পৃথক আরেকটি মামলা করা হয়েছে। মামলা দুটির নম্বর সিআর ৭৪৩/২৬ ও পি ৮৬৭/২৬।
প্রবাসী হাবিবুর রহমান বলেন, আমি যে প্রতারণার শিকার হয়েছি, এমন ঘটনা যেন আর কারও সঙ্গে না ঘটে। আমি ক্ষতিপূরণসহ বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে কনক আক্তার বলেন, এ বিষয়ে ঝিকরগাছা থানায় উভয় পক্ষের বসাবসি হয়েছিল। তিনি মালামাল ও অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত নন এবং মামলায় উল্লেখ করা বিবরণ মিথ্যা বলে দাবি করেন।