❒ খুব শীঘ্রই প্রথম বা দ্বিতীয় স্ত্রীর মধ্যে কাকে তালাক দেবেন, সে বিষয়ে লাইভে জানাবেন
ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে মাসুদ (বামে), লাইভে জাতির কাছে ক্ষমা চান মাসুদ (ডানে) ছবি: সংগৃহীত
প্রথম স্ত্রীকে বহাল রেখেই আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করে দেশজুড়ে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছেন টিকটকার মো. মাসুদ রানা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত ভুল স্বীকার করে জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে হাত জোড় করে সবার কাছে ক্ষমা চান মাসুদ রানা। লাইভ সম্প্রচারে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, প্রথম স্ত্রীকে বহাল রেখে শ্যালিকাকে বিয়ে করাটাই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় ভুল। প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে শ্যালিকাকে বিয়ে করলে হয়তো এই ধরনের আইনি বা সামাজিক প্রশ্নের মুখে পড়তে হতো না—যা তার জানা ছিল না।
তিনি আরও বলেন, যদি বুঝতে পারতেন যে এই ধরনের সম্পর্ক সমাজের চোখে অপরাধ এবং ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম, তবে তারা কখনোই এমন পদক্ষেপে যেতেন না। পাশাপাশি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ছবি ও ভিডিও প্রচার বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। খুব শীঘ্রই প্রথম বা দ্বিতীয় স্ত্রীর মধ্যে কাকে তালাক দেবেন, সে বিষয়েও লাইভে জানানোর কথা উল্লেখ করেন মাসুদ।
এর আগে এই বিতর্কিত বিয়েকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় মাসুদ রানাকে। অভিযোগ রয়েছে, গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরামগ্রাম এলাকায় তার মুখে চুন-কালি মেখে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
জানা যায়, নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা মাসুদ রানা পেশায় একজন আইনজীবীর সহকারী এবং টিকটকার। তার প্রথম স্ত্রী মৌসুমী (২৮) ও দ্বিতীয় স্ত্রী পূর্ণিমা (২১)-এর বাড়ি মহাদেবপুর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামে। বিয়ের আগে মাসুদ বদলগাছী সদর ইউনিয়নের বৈরাগীপাড়ায় মুসলিম উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
গত রবিবার সন্ধ্যায় পরিবারের সম্মতি এবং প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর অনুমতিতেই শ্যালিকা পূর্ণিমাকে বিয়ে করেন মাসুদ রানা। বিয়ের পর সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
বিয়ের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মাঝে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। বদলগাছী এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ভাড়া বাসায় থাকতে না দেওয়ার হুমকি দেন। নিরাপত্তাহীনতার মুখে গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাধ্য হয়ে বাসার সব মালামাল গুছিয়ে বদলগাছী ছাড়েন মাসুদ রানা। এরপর তিনি প্রথম স্ত্রী মৌসুমী ও দ্বিতীয় স্ত্রী পূর্ণিমাকে নিয়ে মহাদেবপুরে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন।
তবে শ্বশুরবাড়িতেও পরিস্থিতি শান্ত থাকেনি। স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের অস্বাভাবিক ও বিতর্কিত বিয়ে সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই ক্ষোভ থেকেই সোমবার রাত ১০টার দিকে মাতাজি বিরাম গ্রামের বিক্ষুব্ধ জনগণ মাসুদ রানার মুখে চুন-কালি মেখে তাকে এলাকা থেকে বের করে দেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি। ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।