ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
নওগাঁয় আপন দুই বোনকে বিয়ে, যুবক ও দুই স্ত্রীকে চুনকালি মাখিয়ে জুতার মালা পরিয়ে গ্রামছাড়া ছবি: সংগৃহীত
প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করার অভিযোগে নওগাঁয় এক যুবক ও তাঁর দুই স্ত্রীকে মারধর, মুখে চুনকালি মাখানো এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে জেলার মহাদেবপুর উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী ওই যুবকের বয়স ৩৫ বছর। তিনি নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন আইনজীবীর সহকারী। গত রোববার সন্ধ্যায় ২১ বছর বয়সী আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করেন তিনি। এর আগে থেকেই তাঁর সঙ্গে শ্যালিকার বড় বোনের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল। দুই স্ত্রীকে নিয়ে ওই যুবক বদলগাছী উপজেলা সদরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই আপন বোনকে বিয়ের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ধর্মীয় বিধানের বিষয়টি উল্লেখ করে বদলগাছীতে তাঁদের ভাড়া বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়। পরে স্থানীয়দের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে ওই যুবক তাঁর দুই স্ত্রীকে নিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে মহাদেবপুর উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত ১০টার দিকে ওই যুবক ও তাঁর দুই স্ত্রী শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছেন, এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের বিয়ে তরুণ প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ যুক্তিতে তাদের গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে যুবক ও তার দুই স্ত্রীকে মারধর করা হয়। পরে তাদের মুখে চুনকালি মাখিয়ে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ঘটনার একটি ১৪ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের বেলায় এক যুবক ও দুই নারীকে ঘিরে রেখেছেন একদল মানুষ। এক ব্যক্তি যুবককে ধরে রেখেছেন। এ সময় আরেক নারী তাদের মুখে চুনকালি মাখিয়ে দেন। উপস্থিত কয়েকজনকে ‘চুনকালি, চুনকালি’ বলে উল্লাস করতেও দেখা যায়। গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার সময় কয়েকজনকে লাঠিসোঁটা দিয়ে ওই যুবককে আঘাত করতে দেখা গেছে বলে ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী যুবকের শ্বশুর গণমাধ্যমকে বলেন, সোমবার রাত আটটার দিকে তার দুই মেয়ে ও জামাতা বাড়িতে আসেন। খবর পেয়ে গ্রামের কয়েকজন তাদের বাড়িতে এসে নানাভাবে হেনস্তা করেন এবং গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বলেন। পরে তার দুই মেয়ে ও জামাতাকে মারধর করে মুখে চুনকালি মাখিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, একই সময়ে আপন দুই বোনকে বিবাহবন্ধনে রাখা বৈধ নয় বলে জানিয়েছেন নওগাঁ জেলা ইমাম-মুয়াজ্জিন পরিষদের সাবেক সভাপতি মাওলানা আকরাম হোসেন। তাঁর ভাষ্য, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তাঁর আপন বোনকে বিয়ে করা নাজায়েজ। তবে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু হলে অথবা বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটলে শ্যালিকাকে বিয়ে করার সুযোগ রয়েছে।
এদিকে, ওই যুবকের সঙ্গে তাঁর দুই স্ত্রীর একাধিক টিকটক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া গেছে। ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তার দুই স্ত্রীর সঙ্গেও যোগাযোগ করা যায়নি।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক জানান, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর মাধ্যমে তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করেননি। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশিত ভিডিও ও স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, বিয়েকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।