ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে ‘৫৬’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) দীর্ঘ ৩৩ দিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। শিক্ষাজীবন ও সেশনজট থেকে ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হলেও নতুন উপাচার্যের পদত্যাগ ও সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের মূল দাবি থেকে সরেননি তারা।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে একটি খোলা চিঠির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাসে ফেরার ঘোষণা দেন। চিঠিতে তারা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থায় একাডেমিক জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষাজীবনকে আর পেছাতে চান না বলেই একাডেমিক কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত আন্দোলন প্রত্যাহার নয়, বরং ভিন্ন কৌশল মাত্র। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে আবারও কঠোর প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের ঘোষণার পরপরই দুপুর ১২টায় জরুরি সাধারণ সভা ডাকে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। বেলা ২টা পর্যন্ত চলা ওই বৈঠক শেষে শিক্ষক সমিতিও শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বানের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানায়। শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির জানান, প্রতিটি বিভাগ নিজ নিজ সমন্বয়ে সুবিধাজনক সময়ে ক্লাস শুরুর তারিখ নির্ধারণ করবে এবং সমিতির বিস্তারিত সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে বিবৃতির মাধ্যমে জানানো হবে।
ঘটনাবলির সূত্রপাত হয় গত ২১ সেপ্টেম্বর। ওই দিন চুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়। এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকেই চুয়েটের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা একযোগে শাটডাউন ও কর্মবিরতি পালন শুরু করেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি বিভাগের ৩৪টি নির্ধারিত পরীক্ষাসহ সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলনের চরম নাটকীয়তা দেখা দেয় গত ১২ অক্টোবর। সেদিন সকালে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে দপ্তরে প্রবেশ করেন। খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে দুপুর ১২টার মধ্যে সরে যাওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেন। আলটিমেটাম শেষে ভবনে তালা লাগিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এতে নতুন উপাচার্যসহ ১১ জন অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর অসুস্থ উপাচার্যকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে গত বৃহস্পতিবার সুস্থ হয়ে তিনি শুক্রবার নগরের সার্কিট হাউসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন।
যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী যুলক্বার নাইন মিহাদ জানান, দীর্ঘদিনের স্থবিরতায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তারা সংঘাত নয়, বরং সম্মানজনক সমাধান চান।
চুয়েট শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যৌথ এক দফা দাবি—নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের নিয়োগ বাতিল করে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকেই পুনর্বহাল করতে হবে। ক্লাসে ফিরলেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ও ক্যাম্পাসে তাদের অহিংস আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।