ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
খুলনা ম্যাপ (ইনসেটে বাম থেকে গুলিবিদ্ধ রামিম ও ধনঞ্জয় কুন্ডু) ছবি: সংগৃহীত
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মাঝেই খুলনায় ফের প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এবার দক্ষিণ টুটপাড়া এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে ধনঞ্জয় কুন্ডু ওরফে আকাশ কুন্ডু (৪৫) নামের এক মুদি ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়েছেন। গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়ার গাছতলা মন্দিরের সামনে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
আহত ধনঞ্জয় কুন্ডু ওই এলাকার গাছতলা মন্দির মোড়ের মুদি ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বাসিন্দা শিবপদ কুন্ডুর ছেলে। বর্তমানে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় একটি মোটরসাইকেলে দুই দুর্বৃত্ত দক্ষিণ টুটপাড়ার ২ নম্বর ক্রস রোডের গাছতলা মন্দিরের সামনে এসে হঠাৎ ধনঞ্জয় কুন্ডুকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি তার পেটে বিদ্ধ হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর মুহূর্তের মধ্যে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। খবর পেয়ে খুলনা থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এই ঘটনার পর পুরো টুটপাড়া এলাকায় থমথমে ও আতঙ্কজনক পরিবেশ বিরাজ করছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন রিপন জানান, কী কারণে এবং কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্বৃত্তদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে।
খুলনায় গত কয়েক দিনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে শনিবার বেলা ১১টার দিকে তেরখাদা উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের পারহাজী গ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে রামিম বিশ্বাস (৩২) নামের এক যুবদল নেতা আহত হন।
এরও আগে, গত বৃহস্পতিবার মাত্র ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে খুলনা মহানগরীতে দুইজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। ওই দিন ভোরে পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় তাওহিদুল ইসলাম তুষার (৩২) নামের এক যুবককে প্রতিপক্ষ দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে। একই দিন সন্ধ্যায় জিন্নাপাড়া বউবাজার এলাকায় মায়ের চোখের সামনে খুশি বেগম (২৫) নামের এক গৃহবধূকে মাথায় গুলি ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
পরপর এসব রক্তক্ষয়ী ও সহিংসতার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। দ্রুত এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।