❒ ড্যান্ডি খাওয়ার সময় কথা কাটাকাটি
ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
গ্রেপ্তারকৃত চার আসামি ছবি: সংগৃহীত
মাদকদ্রব্য আঠা (ড্যান্ডি) সেবনের সময় সামান্য বাগ্বিতণ্ডা। সেই জেরে সহপাঠী ও বন্ধুদের নির্দয় পিটুনিতে প্রাণ হারাতে হয় ২১ বছরের তরুণ সালমানকে। শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি ঘাতকরা, আলামত মেটাতে লাশ গুম করে দেওয়া হয় নদীতে। অবশেষে নিখোঁজের দীর্ঘ পাঁচ মাস পর নরসুন্দা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নিহতের মাথার খুলিসহ ৭৭টি হাড়ের কঙ্কাল। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।
নিহত সালমান কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের কুড়িমারা গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন—পাকুন্দিয়া উপজেলার বিশ্বনাথপুর এলাকার গোলাপ মিয়ার দুই ছেলে সাকিব (১৮) ও মাফি (১৫), একই এলাকার মৃত মোতালেবের ছেলে রফিক (৪০) এবং শামছুদ্দিনের ছেলে রমজান মিয়া (৩৫)।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, গত ১৮ মে সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন সালমান। সম্ভাব্য সব স্থানে খুঁজেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে পরদিন হোসেনপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার। তদন্তভার পেয়ে প্রযুক্তির সহায়তায় সালমানের বন্ধুদের মোবাইল ফোনের কল লিস্ট ও চলাফেরা বিশ্লেষণ শুরু করে ডিবি পুলিশ। এতে ক্লু পেয়ে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়।
ছেলের কোনো সন্ধান না পেয়ে গত শুক্রবার সালমানের বাবা ফজলুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হোসেনপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই পাকুন্দিয়ার বিশ্বনাথপুরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবির বিশেষ একটি দল।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, ঘটনার দিন তারা একসঙ্গে আঠা (ড্যান্ডি) সেবন করছিলেন। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সালমান একটি বাঁশ দিয়ে মাফিকে আঘাত করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সহযোগীরা সালমানের হাত থেকে বাঁশ কেড়ে নিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে হত্যা করেন। পরে অপরাধ ঢাকতে মৃতদেহটি নরসুন্দা নদীর কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।
আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শুক্রবার দুপুরে হোসেনপুরের হাতিমের স্কুল সংলগ্ন নরসুন্দা নদীতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে সালমানের মাথার খুলি, বুকের পাঁজরসহ মোট ৭৭টি হাড় এবং তাঁর ব্যবহৃত গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরনের গেঞ্জি দেখে কঙ্কালটি সালমানের বলে নিশ্চিত করেন তাঁর মা সালমা।
পুলিশ জানায়, নদীর তলদেশ থেকে উদ্ধার করা কঙ্কালের সুরতহাল শেষ করে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকিত সরকার ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মো. বাহার মিয়া উপস্থিত ছিলেন।