❒ বেনাপোলে কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা
বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা
বেনাপোলে চালানে ধোঁকাবাজি করে ভায়াগ্রাসহ ওষুধের কাঁচামাল আমদানি । ছবি: ধ্রুব নিউজ
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে আবারও মিথ্যা ঘোষণার আড়ালে বিপুল পরিমাণ ওষুধের কাঁচামাল আমদানির একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদ্ঘাটিত হয়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আমদানিকৃত একটি চালান থেকে যৌন উত্তেজক ওষুধের উপাদানসহ উচ্চমূল্যের বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যালের র-মেটেরিয়াল জব্দ করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ঘটনায় কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা নস্যাৎ হয়েছে।
কাস্টমস সূত্র জানায়, ভারত থেকে আসা একটি চালানে ঘোষণায় ভিন্ন পণ্যের কথা উল্লেখ করা হলেও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তা সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরে কাস্টমস হাউসের গোয়েন্দা ও তদন্ত শাখা চালানটি কায়িক পরীক্ষার আওতায় আনে। পরীক্ষায় ঘোষণার সঙ্গে অসঙ্গতি ধরা পড়ে এবং লুকানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ভায়াগ্রার উপাদানসহ বিভিন্ন মূল্যবান ওষুধের কাঁচামাল।
কর্তৃপক্ষের দাবি, এ ধরনের জালিয়াতির মাধ্যমে একদিকে যেমন বিপুল অঙ্কের শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, অন্যদিকে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। কারণ, অবৈধভাবে আমদানিকৃত এসব কাঁচামালের মান যাচাই করা সম্ভব হয় না, যা নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদনের পথ তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওষুধের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালা ও মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক। কিন্তু অসাধু চক্রগুলো অধিক মুনাফার আশায় সেই নিয়ম উপেক্ষা করে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানি করছে। ফলে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি বাজারে অনিরাপদ ওষুধ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে একই কৌশলে বন্দর ব্যবহার করে আসছে। বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটায় বন্দরের নজরদারি ও তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
তারা মনে করছেন, শুধু পণ্য জব্দ করেই দায় শেষ করা যাবে না। এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান, সিএন্ডএফ এজেন্ট এবং নেপথ্যের মূল হোতাদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের লাইসেন্স বাতিলসহ দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, বেনাপোল বন্দর দিয়ে অবৈধ আমদানি ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে টেকসই সমাধানের জন্য সমন্বিত নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগের বিকল্প নেই।
ধ্রুব/এস.আই