বাঘারপাড়া(যশোর)প্রতিনিধি
❒ পল্লীকবি আজগর আলী ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রামনগর গ্রামের স্বনামধন্য স্বভাবকবি আজগর আলী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১২ জানুয়ারি) যশোরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) জোহর নামাজ শেষে মরহুমের নিজ গ্রাম রামনগরে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
পল্লীকবি আজগর আলী গ্রামবাংলার সহজ-সরল জীবন, মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমাজবাস্তবতাকে উপজীব্য করে অসংখ্য ছড়া ও কবিতা রচনা করেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষা না থাকলেও তিনি ছিলেন একজন স্বভাবকবি, যার কলমে গ্রামীণ সংস্কৃতির প্রাণস্পন্দন ও গভীর অনুভূতি ফুটে উঠত। তার লেখনী শিশু-কিশোরসহ সর্বস্তরের মানুষকে বিনোদনের পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও জীবনবোধে উদ্বুদ্ধ করত।
ব্যক্তিজীবনে সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা ছিল আজগর আলীর অন্যতম সাফল্য ও গর্বের জায়গা। নিজে উচ্চশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ না পেলেও তার সন্তানদের তিনি উচ্চশিক্ষায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার বড় ছেলে ও পুত্রবধূ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক (লেকচারার) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। মেজো ছেলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত এবং কন্যারাও উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে নিজ নিজ ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সন্তান, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে স্থানীয় সাহিত্যাঙ্গন ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসীর মতে, পল্লীকবি আজগর আলী ছিলেন একজন নিরহংকারী, সৎ ও মানবিক মানুষ। তার কবিতা ও ছড়ার মধ্য দিয়েই তিনি এ অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।