ঝিকরগাছা প্রতিনিধি
প্রবীণ নৌসেনা মো. নজরুল ইসলাম ছবি: ধ্রুব নিউজ
শারীরিক ও মানসিকভাবে পূর্ণ সুস্থ একজন মানুষ। প্রতি মাসে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অবসরকালীন পেনশন তুলছেন, স্বাচ্ছন্দ্যে সংসারের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, অথচ রাষ্ট্রীয় তথ্যে তিনি ‘মৃত’! কোনো রূপকথার গল্প নয়, ঝিকরগাছার ৮৬ বছর বয়সী প্রবীণ নৌসেনা মো. নজরুল ইসলামের জীবনে নেমে এসেছে এমন এক বিচিত্র ও করুণ বাস্তবতা। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাকে এখন প্রশাসনিক দ্বারে দ্বারে দৌড়াতে হচ্ছে কেবল এটি প্রমাণ করতে যে—‘তিনি বেঁচে আছেন!’
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি, নির্বাচনের দিনে। জাতীয় দায়িত্ব পালন করতে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, ভোটার তালিকায় তার নাম নেই। পরবর্তীতে নির্বাচন কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, ভোটার তালিকা হালনাগাদে তাকে ‘মৃত’ বানিয়ে তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী কর্মকর্তা ওই প্রবীণ ব্যক্তির বাড়িতে নিজে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজনবোধ করেননি। মহল্লার অন্য লোকজনের মুখের কথা ও ভুয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে খাতায় তাকে ‘মৃত’ লিখে দেওয়া হয়। এরপর তদারকির দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজারও কোনো সত্যতা যাচাই না করেই চোখ বন্ধ করে ফর্মে স্বাক্ষর ও অনুমোদন বসিয়ে দিয়েছেন।
এদিকে ভুয়া প্রত্যয়নপত্র ঘিরে শুরু হয়েছে চরম বিতর্ক। তথ্য সংগ্রহকারী স্থানীয় ইউপি সদস্যের প্রত্যয়নপত্রের দাবি করলেও, ইউপি সদস্য তা অস্বীকার করে অভিযোগ করেছেন—তথ্য সংগ্রহকারী নিজেই তার সিল ও স্বাক্ষর জাল করেছেন।
অফিসিয়াল নথির এমন অমার্জনীয় ভুলের কারণে ভোটাধিকার হারানোর পাশাপাশি অবসরকালীন পেনশন ও চিকিৎসাসংক্রান্ত আইনি সুবিধা আটকে যাওয়ার তীব্র ঝুঁকিতে পড়েছেন এই সম্মানিত নাগরিক।
এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ইমরানুর রহমান জানান, ভুক্তভোগীর স্ট্যাটাস পুনরায় 'জীবিত' করতে ঢাকায় আবেদন পাঠানো হয়েছে।