ঝিকরগাছা প্রতিনিধি
নির্বাসখোলার পুরাতন খালে পানিপ্রবাহ নিয়ে শঙ্কা ছবি: ঝিকরগাছা প্রতিনিধি
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নির্বাসখোলা ইউনিয়নের আশিংড়ী, শিওরদাহ ও নন্দীডুমুরিয়া গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত একটি পুরাতন খালের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাদের দাবি, খালের একটি অংশে মাছ চাষের জন্য নির্মিত স্থাপনার কারণে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পানি চলাচল ব্যাহত হতে পারে। এতে বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালটি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে নানা কারণে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ আগের তুলনায় কমে গেছে। খালের কিছু অংশ ভরাট ও সংকুচিত হয়ে পড়ায় বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আশিংড়ী গ্রামের বাসিন্দা মোহাব্বত আলী নন্দীডুমুরিয়া মৌজা এবং পার্শ্ববর্তী নাভারণ ইউনিয়নের বায়সা মৌজায় অবস্থিত আফিল ফার্ম সংলগ্ন সরকারি কালভার্টের নিচে প্রাচীর নির্মাণ করে মাছ চাষ করছেন। তাদের মতে, এর ফলে খালের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, অতীতে ভারী বর্ষণ হলেও খাল দিয়ে দ্রুত পানি নেমে যেত। কিন্তু বর্তমানে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে কৃষিজমিতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকার পাশাপাশি ফসলহানি, গ্রামীণ সড়কের ক্ষতি এবং বসতবাড়িতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
নন্দীডুমুরিয়া ও আশিংড়ী গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, বর্ষাকালে খালের পানি স্বাভাবিক গতিতে প্রবাহিত না হলে অন্তত তিন থেকে চারটি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বৃদ্ধি পাবে।
অভিযোগের বিষয়ে মোহাব্বত আলী বলেন, এখানে নতুন করে খাল দখল করা হয়নি। প্রায় ২৫-২৬ বছর আগে থেকেই এই স্থানে পুকুর রয়েছে। খাল অনেক আগেই ভরাট হয়ে গেছে। প্রকৃত অবস্থা জানতে সরেজমিনে দেখে যাওয়ার অনুরোধ করছি।
এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই খালটির বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক। তাদের মতে, সময়মতো উদ্যোগ নেওয়া গেলে সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা ও কৃষি ক্ষতির ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।