নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার সকালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, যশোরের আয়োজনে জেলা শহরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। ছবি: ধ্রুব নিউজ
‘অগ্নিযোদ্ধাদের একটাই পণ, নিরাপদ রাখবো সম্পদ ও জীবন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যশোরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ ২০২৬। বুধবার সকালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, যশোরের আয়োজনে জেলা শহরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ‘গতি, সেবা ও ত্যাগ’—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দেশ ও জনগণের সেবায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মানুষের জানমাল রক্ষা করাই এ বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য। দুর্যোগ-দুর্বিপাকে ফায়ার সার্ভিস সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়ায় বলেই প্রতিষ্ঠানটি আজ জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। শুধু অগ্নিকাণ্ড নয়, মানবিক বিভিন্ন উদ্ধার কাজেও সাধারণ মানুষের প্রথম ভরসা ফায়ার সার্ভিস।
অনুষ্ঠানে যশোর জেলায় ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের বার্ষিক কার্যক্রম ও অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে জেলায় মোট ৩৮৬টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ ৮৬ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হলেও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সাহসী ও দ্রুত তৎপরতায় প্রায় ১৩ কোটি ৩৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার সম্পদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, এবং এসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত হয়েছেন ২ জন।
অগ্নিনির্বাপণের পাশাপাশি বছরজুড়ে জেলায় মোট ৩৮৬টি সড়ক ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। এসব দুর্ঘটনায় ৪৩২ জন আহত এবং ৩৯ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতালে পাঠিয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। এছাড়া জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবার আওতায় গত এক বছরে ১৭৮টি কলে সাড়া দিয়ে ১৫০ জন রোগীকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। জানমালের সুরক্ষার পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিতেও ফায়ার সার্ভিস সমান ভূমিকা রেখেছে। গত বছরে জেলাজুড়ে ৩৫৬টি গণসংযোগ, ৩৪৫টি টপোগ্রাফি এবং বিভিন্ন শপিং মল, হাট-বাজার ও প্রতিষ্ঠানে ৬৮টি মহড়া পরিচালনা করা হয়েছে। একই সাথে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৬৬টি বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে ৩ হাজার ৭০১ জন শিক্ষার্থীকে মৌলিক অগ্নি নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
আলোচনা সভায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, যশোরের সহকারী পরিচালক আব্দুস সালাম বলেন, ফায়ার সার্ভিস সবসময় জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে। আগুনসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় মানুষ ভালোবেসে এই বাহিনীকে ডাকে এবং অনেক কাজ মূল দায়িত্বের বাইরে হলেও মানবিক কারণে কর্মীরা তা সম্পন্ন করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দ্রুততম সময়ে সেবা দেওয়ার মানসিকতা থাকলেও দূরবর্তী স্থান ও যানজটের কারণে অনেক সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার বলেন, বাংলাদেশ একটি প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক কারণেই দুর্যোগপ্রবণ দেশ এবং ফায়ার সার্ভিস ২৪ ঘণ্টা জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকে। তবে কেবল ফায়ার সার্ভিসের ওপর নির্ভর না করে, নগর পরিকল্পনায় ভবন নির্মাণের সময় পর্যাপ্ত রাস্তা ও পানির উৎস নিশ্চিত করা গেলে যেকোনো দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।