নিজস্ব প্রতিবেদক
সাংবাদিকদের ৬ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণাকারী চক্রকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবিতে পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে প্রেসক্লাব যশোরসহ সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের ছয়টি সংগঠন। রোববার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপি গ্রহণের পর পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম পেশাদার সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, এই দুর্বৃত্ত চক্রকে কঠোর হাতে দমন করা হবে।
স্মারকলিপিতে যৌথভাবে স্বাক্ষর করেছেন, প্রেসক্লাব যশোর-এর সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন ও সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমান, যশোর সংবাদপত্র পরিষদ-এর সভাপতি একরাম উদ দ্দৌলা ও সাধারণ সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন (জেইউজে)-এর সভাপতি সাজেদ রহমান ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর-এর সভাপতি আকরামুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ, যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন-এর সভাপতি শেখ দিনু আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মোর্শেদ আলম, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন যশোর-এর সভাপতি গোপীনাথ দাস ও সাধারণ সম্পাদক এম আর খান মিলন।
স্মারকলিপিতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, অর্ধশতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান প্রেসক্লাব যশোর এই জেলার সাংবাদিকদের একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম। জেলার পেশাজীবী সকল সাংবাদিক এই ক্লাবের ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করছেন। যশোরের উন্নয়ন ও সম্ভাবনা নিয়ে এই জেলার সাংবাদিকরা যেমন তথ্যবহুল সংবাদ পরিবেশন করেন; তেমনি সমস্যা, সংকট, জনদুর্ভোগ ও জনআকাঙ্ক্ষা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে সরকার ও প্রশাসনকে প্রতিনিয়ত সহায়তা করে আসছেন।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সম্প্রতি একটি সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্ত চক্র যশোরের পেশাদার সাংবাদিকদের চরিত্র হনন ও দীর্ঘদিনের পেশাগত ঐক্য বিনষ্টের গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। গত কিছুদিন ধরে এই চক্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পেশাদার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য সংবলিত কুরুচিপূর্ণ ভিডিও ছড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সম্মানহানিকর প্রচারণা চালাচ্ছে। ভুয়া আইডি খুলে অপপ্রচারে নামা এই চক্রটি যশোরের মানুষের প্রিয় ব্যক্তিত্ব একজন প্রতিমন্ত্রীর নাম ও ছবি ব্যবহার করেও মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করেছে। দুর্বৃত্তদের এমন তৎপরতা কেবল পেশাদার সংবাদকর্মীদের বিব্রত ও ঝুঁকির মুখে ফেলছে না, বরং জনমনে চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। চক্রটির এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যশোরের সকল পর্যায়ের পেশাদার সাংবাদিকরা চরমভাবে ক্ষুব্ধ।
স্মারকলিপিতে জানানো হয়, গত ১১ মে সোমবার প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সংগঠনসমূহের যৌথ সভায় এই অপপ্রচারের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সভায় উঠে আসে, সম্প্রতি ‘যশোরের মিডিয়া কোরপশন’ (Jashorer Media Corruption) নামে ফেসবুকে একটি ভুয়া পেজ খুলে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। চক্রটি যশোরের প্রথম সারির পেশাদার সংবাদকর্মীদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে কয়েকটি কুরুচিপূর্ণ ভিডিও তৈরি করে ওই পেজে আপলোড করেছে। এর আগেও বিভিন্ন নামে আরও কয়েকটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের নামে একই ধরনের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রচারণা চালানো হয়েছিল।
নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, এই চিহ্নিত ‘ব্ল্যাকমেইলার চক্র’ মূলত পেশাদার সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে এবং তাদের চরিত্র হনন করতে এই পথ বেছে নিয়েছে। সাংবাদিকতার নামে অবাধে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে জিম্মি করে অসাধু উপায়ে অর্থ আদায়সহ নানা অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে বাধা পাওয়ায় দুর্বৃত্তরা এমন অপকর্ম করছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে শোনা যাচ্ছে, এসব চক্রের সাথে সাংবাদিক নামধারী কিছু টাউট-চাঁদাবাজ, এমনকি পুলিশ প্রশাসনেরও কতিপয় অসাধু সদস্য জড়িত রয়েছে। সাংবাদিকতার পেশাগত মর্যাদা রক্ষা, দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন ও পেশাদার সাংবাদিকদের সুরক্ষার স্বার্থে এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
স্মারকলিপি প্রদানকালে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ফেক আইডি খুলে পেশাদার সাংবাদিকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ভিডিও তৈরি করে অপপ্রচার চালানো দুর্বৃত্ত চক্রের সঙ্গে যে বা যারাই যুক্ত থাকুক না কেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদেরকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। স্মারকলিপি প্রদানের আগে নেতৃবৃন্দ সামগ্রিক বিষয়টি জেলা পুলিশ প্রধানকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন।
স্মারকলিপি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করে পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, "অপরাধী ও দুর্বৃত্তচক্রকে কোনোভাবেই ছাড় বা আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই চক্রের মুখোশ উন্মোচন করা হবে।" তিনি আরও দৃঢ়তার সাথে বলেন, ফেসবুক বা অনলাইনে কোনো ধরনের প্রতারণা কিংবা ব্ল্যাকমেইলার চক্রকে যশোরে কোনো প্রকার অপতৎপরতা চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না। জেলা পুলিশ এই চক্রটিকে দমনে অবিলম্বে মাঠে নামছে।