❒ কখন আসবে বাবা?’—তিন মেয়ের অবুঝ প্রশ্নে কাঁদলেন মা ও দাদি
নিজস্ব প্রতিবেদক
অবুঝ তিন মেয়েকে নিয়ে স্বামীর খোঁজে রেশমার সংবাদ সম্মেলন ছবি: ধ্রুব নিউজ
‘বাবা কি আজ রাতে বাসায় ফিরবে? বাবা কখন আসবে?’— বড় বোন রুপুর কাছে এমন অবুঝ প্রশ্ন ১০ বছরের রাফি আর ৬ বছরের ছোট্ট হৃদার। কিন্তু ১৫ বছর বয়সী বড় মেয়ে রুপুর চোখে তখন কান্না। সে জানে, তার বাবা দুই দিন ধরে নিখোঁজ। যশোরের শংকরপুর এলাকার ব্যবসায়ী বাবা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে (৪৫) একদল দুর্বৃত্ত তুলে নিয়ে গেছে। আজ বুধবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোর এক সংবাদ সম্মেলনে তিন কন্যাকে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন মা রেশমা খাতুন। তিন বোনের সেই করুণ চাউনি আর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো প্রেস ক্লাব এলাকা।
নিখোঁজ জাহাঙ্গীর আলমের তিন কন্যাসন্তান—বড় মেয়ে রুপু (১৫), মেজো মেয়ে রাফি (১০) এবং ছোট মেয়ে হৃদা (৬)। বাবার অত্যন্ত আদরের এই তিন বোন গত দুই দিন ধরে ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করছে না। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অপহৃত ব্যবসায়ীর বৃদ্ধা মা জাহানারা বেগম এবং বোন সেলিনা জামান। ছেলের শোকে পাথর হয়ে যাওয়া জাহানারা বেগম কেবল বিড়বিড় করছিলেন, ‘আমার কলিজার টুকরোকে ফিরিয়ে দাও, ও তো কারো ক্ষতি করেনি।’
নিখোঁজ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম যশোর সদর উপজেলার ধর্মতলা এলাকার ভাড়াটিয়া এবং শংকরপুর পশু হাসপাতালের সামনে অবস্থিত ‘আর আর মেডিকেল ও জে আর এগ্রোভেট’-এর স্বত্বাধিকারী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রেশমা খাতুন জানান, গত ২ মার্চ (সোমবার) রাত পৌনে ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন জাহাঙ্গীর। পথ থেকে একদল অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত তাকে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। অপহরণকারীরা কেবল মানুষটিকেই নয়, তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত চম্পট দেয়। রাত ১০টার দিকে খোদ জাহাঙ্গীর আলমের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর থেকেই ফোন আসে বাড়িতে। অপহরণকারীরা সরাসরি ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে বসে। ফোনে স্বামীর কণ্ঠ শোনার জন্য আকুতি জানালেও অপহরণকারীরা তা গ্রাহ্য করেনি।
রেশমা খাতুন কান্নজড়িত কণ্ঠে জানান, ‘অপহরণকারীরা বলেছে টাকা না দিলে তাকে মেরে ফেলবে। এতো টাকা কোথায় পাবো?’
‘আমার স্বামী একজন সাধারণ সৎ ব্যবসায়ী। কারো সঙ্গে তার কোনো শত্রুতা ছিল না। আমার কোলের শিশুটি তার বাবাকে খুঁজছে। আমি কি আর তাকে ফিরে পাব না?’
প্রশাসনের কাছে তিনটি জোরালো দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আমার তি সন্তানের বাবা দ্রুত ও জীবিত উদ্ধার করুন, অপহরণকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনুন। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সুষ্ঠু তদন্ত করুন।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি (অফিসার ইনচার্জ) জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।