মুফতি আবু জাফর
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন মহান আল্লাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং বরকতময়। এই দিনগুলোর ইবাদত আল্লাহর কাছে বছরের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রিয়।
প্রথম ১০ দিনের সাধারণ ফজিলত মাসের শ্রেষ্ঠত্ব: জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন ইবাদতের জন্য বছরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং ফজিলতপূর্ণ সময়। দিনের রোজার সওয়াব: এই দশকের (১ থেকে ৯ তারিখ) প্রতিটি দিনের নফল রোজা এক বছরের নফল রোজার সমতুল্য সওয়াব এনে দেয়। রাতের ইবাদতের মর্যাদা: এই দশকের প্রতিটি রাতের ইবাদত ‘লাইলাতুল কদর’ বা শবে কদরের রাতে ইবাদত করার সমপরিমাণ সওয়াব বয়ে আনে।
৯ জিলহজ ও দিবাগত রাতের বিশেষত্ব (আরাফাহ ও ঈদের রাত) আরাফাহর দিনের রোজা: ৯ জিলহজ রোজা রাখলে বিগত এক বছর এবং এক বছরের (মোট ২ বছর) গুনাহ মাফ হওয়ার সুসংবাদ রয়েছে। ঈদের রাতের ইবাদত: ৯ তারিখ দিবাগত রাতটি মূলত ঈদের রাত। এই রাতে ইবাদত করা শবে কদরের রাতের ইবাদতের মতোই সওয়াবের কাজ। জীবন্ত অন্তরের সুসংবাদ: যারা এই রাতে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকবে, কিয়ামতের কঠিন দিনে (যেদিন সবার অন্তর ভয়ে স্তব্ধ হয়ে যাবে) তাদের অন্তর মৃত হবে না। দোয়া কবুলের নিশ্চয়তা: এই রাতে বান্দার নেক দোয়া ও মোনাজাত কবুল হওয়ার বিশেষ ওয়াদা রয়েছে।
১০ জিলহজ: কোরবানি বা কুরবানির দিনের সুন্নত আমল দ্রুত কোরবানি করা: ঈদের নামাজ শেষ করার পর যত দ্রুত সম্ভব কোরবানির পশু জবেহ করা সুন্নত। কোরবানির গোশত দিয়ে নাশতায়: ঈদের দিন সকাল থেকে কিছু না খেয়ে (রোজা নয়, বরং না খেয়ে থাকা) নামাজের পর নিজের কোরবানির পশুর গোশত দিয়ে প্রথম খাবার বা নাশতা গ্রহণ করা সুন্নত।
গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা (মুস্তাহাব আমল) নখ-চুল না কাটা: যে ব্যক্তি কোরবানি করার ইচ্ছা পোষণ করেন, তাঁর জন্য জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর থেকে নিয়ে কোরবানি সম্পন্ন করা পর্যন্ত শরীরের কোনো অংশের নখ, মোচ, চুল, বগল ও নাভির নিচের পশম বা চামড়া না কাটা মুস্তাহাব।