আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নেহা বোরা (বাঁ থেকে দ্বিতীয়) ছবি: সংগৃহীত
ভারতে নির্বাচনী তালিকায় অনিয়ম ও নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে চরম অসন্তোষের মুখে পদত্যাগের দাবির মুখে পড়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এই বিতর্কের জেরে দেশটির বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনের অংশ হিসেবে দিল্লিতে আয়োজিত এক প্রতিবাদ মিছিল থেকে আটক দুই রাজনৈতিক নেতার মধ্যে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) প্রধান নেহা বোরাকে মুক্তি দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তবে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এখনো পুলিশের প্রতিরোধমূলক আটকের আওতায় রয়েছেন।
গত শুক্রবার দিল্লির ঐতিহ্যবাহী কনট প্লেসে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ শীর্ষক প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিতে যাওয়ার সময় পুলিশ তাদের আটক করে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শনিবার ভোরে দিল্লি পুলিশ আইনের ৬৫ ধারার অধীনে নেহা বোরাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১২৬ ও ১৭০ ধারায় অভিজিৎ দীপকে-কে হেফাজতে রাখা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, দিনের পরবর্তী সময়ে তাকে স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (এসইএম) আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
তবে সিজেপি প্রধানের আটক কেন্দ্র করে তীব্র ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। দলটির আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিং ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, অভিজিৎকে আটক করার পর থেকে কোনো অজ্ঞাত স্থানে রেখে দেওয়া হয়েছে এবং আইনজীবীদেরও তার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, অভিজিৎকে এসইএম আদালতে তোলার কথা বলা হলেও আদতে তাকে কোথায় রাখা হয়েছে—তা এখনো তাদের অজানা।
এদিকে কারামুক্তির পরপরই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন আইসা নেত্রী নেহা বোরা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, কোনো সুনির্দিষ্ট ও বৈধ কারণ ছাড়াই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ধরে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা হচ্ছে। মূলত সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতেই প্রশাসন এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে অভিজিৎসহ আটক সকল আন্দোলনকারীর অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান তিনি।
এর আগে শুক্রবার দুই দলের পক্ষ থেকেই আটক নেতাদের নিরাপত্তা ও অবস্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। সিজেপি দাবি করে, আটকের পর থেকে অভিজিতের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আইসার পক্ষ থেকে জানানো হয়, নেহা বোরাকে মঙ্গোলপুরীর অ্যান্টি-নারকোটিকস টাস্ক ফোর্সের কার্যালয়ে এককভাবে আটকে রাখা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকায় নানা অসংগতি ও নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত এসআইআর পদ্ধতির বিরুদ্ধে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এসব প্রতিবাদের পেছনে সিজেপি ছাড়াও বিভিন্ন বিরোধী দল, ছাত্রসংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।
সূত্র: এনডিটিভি