আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনে অবস্থিত একের পর এক যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়, উৎপাদন কারখানা ও গুদামে হামলা চালাচ্ছে রুশ বাহিনী। ধারাবাহিকভাবে চালানো এসব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন ব্যবসা ও বিনিয়োগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। খবর সিএনএনের।
ইউক্রেনের আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাসে কোকা-কোলা, পেপসিকো, ম্যাকডোনাল্ডস এবং ওরিওর মতো বিশ্বখ্যাত মার্কিন ব্র্যান্ডগুলোর বিভিন্ন স্থাপনা সরাসরি রুশ বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর কিয়েভ সংলগ্ন এলাকায় একটি কোকা-কোলা কারখানায় ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। এর কিছুদিন পর, ২৫ সেপ্টেম্বর কিয়েভে ম্যাকডোনাল্ডসের পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের গুদামে ‘শাহেদ’ ড্রোন আঘাত হানে। ফলে কাঁচামাল ও পণ্য সংকটে পড়ে ইউক্রেনে সাময়িকভাবে নিজেদের মেন্যু ছোট করতে বাধ্য হয়েছে ম্যাকডোনাল্ডস।
ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন ব্যবসায়িক স্বার্থ, শত শত কোটি ডলারের বিনিয়োগ ও জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বারবার হুমকির মুখে পড়লেও হোয়াইট হাউসের দিক থেকে রাশিয়ার এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কোনো নিন্দা বা কার্যকর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এসব হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে দেওয়া ক্রেমলিনের একটি স্পষ্ট ও পরোক্ষ বার্তা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, একদিকে নিজেদের দেশের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হলেও ট্রাম্প প্রশাসন ক্রেমলিনের বিরুদ্ধে নীরব, কিন্তু অন্যদিকে তারা কঠোর চাপ বজায় রাখছে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ওপর। ইউক্রেন যেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও তেল শোধনাগারগুলোতে পাল্টা আক্রমণ না করে, সে জন্য ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কিইভকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা ও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিদ্যমান মার্কিন আইন ও বিধিনিষেধ তোয়াক্কা না করে রাশিয়া থেকে সরাসরি ডিজেল আমদানির চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন। একইসঙ্গে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত রাখলে সামরিক সহায়তা পুরোপুরি কমিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি অ্যান্ডি হুন্ডার জানান, মার্কিন ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরতে স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মতো ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ নীতি-নির্ধারকদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মন্তব্য না করে বরং পুরো যুদ্ধটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে এনে একটি সার্বিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে মাঠপর্যায়ে মার্কিন কোটি কোটি ডলার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রশাসনের এমন নির্লিপ্ততায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বিগ্নতা তৈরি হয়েছে ইউক্রেনে কর্মরত মার্কিন ব্যবসায়ী মহলে।