আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডর রুজভেল্ট ছবি: উইকি
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এবার বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের বিরুদ্ধে টানা তিন দিন তীব্র ও সংক্ষিপ্ত সামরিক অভিযান চালানোর একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরি করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনই এই নতুন সামরিক অভিযানে সম্মতি না দিয়ে সিদ্ধান্তে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখাচ্ছেন এবং আপাতত এ পরিকল্পনায় ভেটো দিয়ে রেখেছেন।
সম্প্রতি ক্যাম্প ডেভিডে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সভাপতিত্বে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পেন্টাগনের তৈরি এই রণকৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত নির্দেশ পেলে এই পরিকল্পনার অধীনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভাণ্ডার, প্রধান জ্বালানি অবকাঠামো এবং কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের হামলা চালানো হবে। সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করতে মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যে দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন রয়েছে। পেন্টাগন সূত্র জানিয়েছে, চলতি অক্টোবরের শেষের দিকে ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’, ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’ এবং ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’—এই তিনটি রণতরি আরও ২০ হাজার সেনাসদস্যসহ অঞ্চলটিতে যোগ দেবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে, আসন্ন ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেহরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে আড়ালে কূটনৈতিক সংলাপ চলছে। মধ্যস্থতাকারীদের সাহায্যে আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হলেও, পারমাণবিক কর্মসূচির শর্তাবলি ও দরকষাকষির মূল ধাপগুলো নির্ধারণে উভয় পক্ষ এখনও সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।
গত সেপ্টেম্বর থেকে পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরে ইরানের পক্ষ থেকে অন্তত ১৩টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটলেও যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের সামরিক জবাব দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি নির্বাচন এবং পরবর্তী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চান না। তবে সামরিক চাপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখতে ইতিমধ্যে ইরানের তেল চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত ১৭টি ট্যাঙ্কার জাহাজের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।