Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

ক্রিস্টার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যর্থতার পর পদ ছাড়ছেন টেনেসির কারাপ্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ৪ অক্টোবর,২০২৬, ১১:৫৪ এ এম
ক্রিস্টার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যর্থতার পর পদ ছাড়ছেন টেনেসির কারাপ্রধান

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর পদত্যাগ করছেন রাজ্যের কারা বিভাগের প্রধান ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডা। গত বুধবার প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও পাইকের মৃত্যু হয়নি। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

শনিবার টেনেসির গভর্নর বিল লি ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনের কমিশনার স্ট্রাডার সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

স্ট্রাডা বলেন, তার পদত্যাগ টেনেসি অঙ্গরাজ্যের স্বার্থেই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থতার ঘটনা নিয়ে যে তদন্ত চলছে, সেটি যথাযথ ও প্রয়োজনীয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর। পাশাপাশি চলতি বছরের জন্য অঙ্গরাজ্যে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন তিনি।

পাইকের আইনজীবীরা স্ট্রাডার পদত্যাগকে ‘ন্যায্য’ সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তারা বলেছেন, এতে এখন ক্রিস্টা পাইকের কোনো উপকার হবে না।

আইনজীবীদের বিবৃতিতে বলা হয়, বুধবার পাইকের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা শুধু একজন ব্যক্তির ব্যর্থতা নয়; এর সঙ্গে টেনেসির পুরো মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থার কাঠামোগত ব্যর্থতা জড়িত। গভর্নরের নির্দেশ দেওয়া পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যের মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থার গুরুতর সমস্যাগুলো বেরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।

বুধবার ক্রিস্টা পাইকের শরীরে প্রাণঘাতী ওষুধ পেন্টোবারবিটালের দুটি ডোজ প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু দুই দফা ইনজেকশন দেওয়ার পরও তিনি বেঁচে ছিলেন। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইনজেকশন দেওয়ার সময় পাইকের কান্না, কাতর শব্দ ও জোরে শ্বাস নেওয়ার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তিনি অচেতন ছিলেন এবং তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছিল।

বর্তমানে টেনেসির ন্যাশভিলের একটি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। আইনি নথিতে বলা হয়েছে, চিকিৎসকেরা তার শরীর থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যবহৃত ওষুধের প্রভাব দূর করার চেষ্টা করছেন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

এদিকে পাইকের মৃত্যুদণ্ড আবার কার্যকর করার চেষ্টা করা হবে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো কিছু জানায়নি। ব্যর্থতার কারণ সম্পর্কেও কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। পাইকের আইনজীবীরা শুক্রবার জরুরি আবেদন করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘সব ধরনের প্রমাণ’ সংরক্ষণের অনুরোধ করেছেন।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে পাইকের আইনজীবীরা তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন, পাইকের চিকিৎসা ইতিহাস ও শারীরিক গঠনের কারণে প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগে অতিরিক্ত ব্যথা ও কষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাইকের থ্রম্বোসাইটোসিস নামের একটি রক্তজমাট-সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে এবং তার শিরাগুলোও তুলনামূলকভাবে ছোট। এসব কারণে ইনজেকশন প্রয়োগের সময় জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছিলেন।

তবে একাধিক দফায় আইনি চ্যালেঞ্জের পরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়। মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের জন্য পাইকের আইনজীবীদের করা দুটি পৃথক আবেদনও যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রত্যাখ্যান করেন। পরে টেনেসির গভর্নরও তার ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন নাকচ করেন।

পাইকে টেনেসির মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারীদের মধ্যে একমাত্র বন্দী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে ক্রিস্টা পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ঘটনার সময় পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর। সে সময় তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল টাডারিল শিপের। তারা দুজন মিলে স্লেমারকে মারধর, নির্যাতন ও হত্যা করেন বলে মামলায় উঠে আসে।

পরের বছর, ১৯৯৬ সালে পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। টেনেসির নক্সভিলে ওই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে সে সময় ব্যাপক সংবাদমাধ্যমের আগ্রহ তৈরি হয়েছিল।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)