আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পারমাণবিক শক্তি ও খনিজ খাতে এক যুগান্তকারী খবরের মুখ দেখল মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব। দেশটির মদিনা অঞ্চলের জাবাল সাঈদ এলাকায় প্রায় ১১ কোটি টন আকরিক সমৃদ্ধ একটি প্রকাণ্ড খনিজ ভাণ্ডারের সন্ধান পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৭০তম সাধারণ সম্মেলনে সৌদির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুলআজিজ বিন সালমান বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন।
ভূতাত্ত্বিক জরিপে দেখা গেছে, জেদ্দা শহর থেকে ৩৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত জাবাল সাঈদে উচ্চ ঘনত্বের ইউরেনিয়ামের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ভারী দুর্লভ খনিজ উপাদান (Rare Earth Elements) জমা হয়ে আছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস)-এর তথ্যমতে, স্থানটিতে ৫ লাখ ৫২ হাজার টন ভারী ও ৩ লাখ ৫৫ হাজার টন হালকা দুর্লভ খনিজ এবং প্রায় ৩১ হাজার টন ইউরেনিয়াম গচ্ছিত রয়েছে। নতুন আবিষ্কৃত এই খনিজ সম্পদের বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার, যা ২০১৮ সালের অনুমানের চেয়ে প্রায় ৯০ শতাংশ বেশি।
এই আবিষ্কার সৌদি আরবের পারমাণবিক শক্তি ও নতুন প্রযুক্তির স্বপ্নকে এক ধাপ এগিয়ে নিল। ইতিপূর্বেই ২০২৫ সালের নভেম্বরে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় সৌদি খনি সংস্থা ‘মাআদেন’ ও আমেরিকান কোম্পানি ‘এমপি মেটেরিয়ালস’-এর মধ্যে খনিজ প্রক্রিয়াকরণের লক্ষ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়। এতে নতুন একটি প্রসেসিং প্ল্যান্ট তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ ৪৯ শতাংশ অর্থায়নে রাজি হয়। পরবর্তীতে ২৬ জুলাই দুই দেশের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক বেসামরিক পারমাণবিক সহায়তা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়, যা আমেরিকান প্রযুক্তি ও অর্থায়নের সাহায্যে সৌদির পারমাণবিক কর্মসূচিকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে।
সৌদি আরবের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইতোমধ্যেই আরও দুটি উন্নত খনিজ অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান চিহ্নিত করেছে, যেখানে প্রায় ৬৪ কোটি ৪০ লাখ টন ধারণক্ষমতার খনিজ সম্পদ থাকার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। জ্বালানি তেল-নির্ভর অর্থনীতি থেকে বের হয়ে এসে নতুন যুগের প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব খনিজ শিল্পে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সৌদি প্রচেষ্টায় জাবাল সাঈদের এই আবিষ্কার এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করল।