আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে একত্রিত হয়েছেন বিশ্বনেতারা ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সামরিক আগ্রাসনের পথ পরিহার করে সংলাপ ও কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জোর আহ্বান জানিয়েছে ব্রিকস। ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম প্রকাশ না করেই বিশ্বজুড়ে সব ধরনের আগ্রাসন ও একতরফা সামরিক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। টানা নানা মতপার্থক্য কাটিয়ে সদস্যদেশগুলোর সর্বসম্মতিক্রমে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’ গৃহীত হওয়ার পর তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা নিয়ে জোটের অন্যতম দুই সদস্য ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় প্রথমে যৌথ বিবৃতি নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। তবে কয়েক দিনের নিবিড় আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশ দুটি অভিন্ন ভাষায় সম্মত হয়। মে মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে মতভেদের কারণে ব্যর্থতার পর, এবারের সম্মেলনে সবাইকে এক ছাতার নিচে এনে এই যৌথ ঘোষণা পাশ করানোকে আয়োজক দেশ ভারতের জন্য এক বড় কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গৃহীত ঘোষণাপত্রে বিশ্বব্যবস্থার ভারসাম্য রক্ষায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ উঠে এসেছে:
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মতো বিশ্বনেতারা এই সম্মেলনে সশরীরে যুক্ত হন। বিশ্বের ৪০ শতাংশেরও বেশি জনসংখ্যা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় চার ভাগের এক ভাগ নিয়ন্ত্রণকারী এই জোটের এমন ঐক্যবদ্ধ অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে তাদের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকেই নতুন করে প্রমাণ করে।