আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। 'স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নির্মাণ'—এই মূল প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০২৬ সালে জোটটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে ভারত। চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং প্রযুক্তিগত দ্রুত পরিবর্তনের এই সময়ে জোটের সম্প্রসারিত সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর সমঝোতা তৈরি এবং বাস্তবসম্মত ফলাফল অর্জনই এবারের আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
সম্মেলনের অংশ হিসেবে শনিবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে একাধিক বিশ্বনেতার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ব্রিকসের অন্যতম অংশীদার দেশ ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী লে মিন হুংয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুদেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর আগে গত মে মাসে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট তো লামের ভারত সফরকালে দুই দেশ বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক খাতকে নতুন উচ্চতায় নিতে তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘উন্নত বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত করতে সম্মত হয়েছিল। শনিবারের এই বৈঠকে প্রথাগত সহযোগিতার পাশাপাশি ফিনটেক ও সংকটপূর্ণ খনিজ সম্পদের মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলোতে অংশীদারত্ব বাড়ানোর বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন ও বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় নিজেদের কৌশলগত প্রস্তাব তুলে ধরার পাশাপাশি ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে হ্যানয় এই সম্মেলনকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে।
একই দিনে প্রধানমন্ত্রী মোদি ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলী, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং আবুধাবির যুবরাজের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। দ্বিপক্ষীয় এসব আলোচনায় সামরিক ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে ইথিওপিয়া ও মালয়েশিয়া। বিশ্বমঞ্চে বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মতাদর্শের দেশের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সমঝোতা গড়ে তোলার মাধ্যমে ভারত এ সম্মেলনে তার নেতৃত্বশীল ভূমিকা প্রদর্শন করছে।
বর্তমানে ১১টি স্থায়ী সদস্য—ব্রাজিল, চীন, মিসর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—এবং ১০টি সহযোগী অংশীদার দেশ নিয়ে গঠিত ব্রিকস জোট। সহযোগী দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে নাইজেরিয়া, বেলারুশ, বলিভিয়া, কিউবা, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম। সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর পারস্পরিক সদিচ্ছাকে বাস্তবসম্মত বাণিজ্যিক ও ভূরাজনৈতিক সাফল্যে রূপ দিতে এবারের সম্মেলনে উদ্ভাবনী ব্যবস্থা ও বিদ্যমান কর্মসূচিগুলো আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।