আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসিকে রীতিমতো ধুয়ে দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এই আন্তর্জাতিক বিচারিক সংস্থাকে ‘বোকাদের আখড়া’ আখ্যা দিয়ে তিনি কড়া ভাষায় অভিযোগ করেছেন, কিছু উন্মাদ ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকা এই প্রতিষ্ঠানটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও আগ্রাসী পদক্ষেপ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ফিলিপাইনের ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের এক ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ দমনে আইসিসির প্রয়োজনীয়তা থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র কেন এর প্রবল বিরোধিতা করছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রুবিও একেবারে সোজাসাপ্টা জবাব দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র কখনোই আইসিসির সদস্য ছিল না এবং এর প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তিতেও কখনো সই করেনি, তাই কোনো মার্কিন নাগরিকের ওপর এই আদালতের বিচারিক খবরদারি ওয়াশিংটন কখনোই মেনে নেবে না।
আইসিসির ক্ষমতা চর্চার পরিধি নিয়ে চরম বিরক্তি প্রকাশ করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যে চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র অংশই নেয়নি, সেই চুক্তির দোহাই দিয়ে তাদের ওপর ব্যবস্থা নেওয়ার যে দাবি আইসিসি করছে, তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং নিজেদের সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়ার এক দুঃসাহসিক অপচেষ্টা। তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আইসিসির ভেতরে এমন কিছু উন্মাদ বসে আছে, যারা মার্কিন সেনাসদস্য থেকে শুরু করে বর্তমান কিংবা ভবিষ্যতের প্রেসিডেন্টদেরও কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দুঃস্বপ্ন দেখছে, যা বাস্তবে কখনোই ঘটা সম্ভব নয়। মূলত, আইসিসির প্রতিষ্ঠাকালীন ‘রোম সংবিধি’-তে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই যুক্ত না হলেও, আদালতটি মার্কিন সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিচার করার যে একচেটিয়া ক্ষমতা দাবি করে আসছে, তাকে একটি ‘অসহনীয় হুমকি’ হিসেবেই দেখছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, কোনো জবাবদিহিতা ছাড়াই আইসিসি ধীরে ধীরে নিজেকে বিশ্বের একচ্ছত্র বিচারিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার পাঁয়তারা করছে।
এই পরিস্থিতিতে আইসিসির বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধংদেহী অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই আদালতের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে কোনো ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতেই পিছপা হবে না তারা। যুক্তরাষ্ট্রের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে—মার্কিন নাগরিকদের ওপর আইসিসির বিচারিক ক্ষমতা যেন মিত্র দেশগুলো প্রত্যাখ্যান করে, সেই বিষয়ে তাদের জোরালোভাবে উৎসাহিত করা। পাশাপাশি, যেসব দেশ আইসিসিকে সমর্থন দেয়, তাদের ওপর কড়া নজরদারি রাখার সঙ্গে সঙ্গে রোম সংবিধির বাইরে থাকা দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি আইসিসির কর্মকর্তা ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর নতুন করে ভিসা ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাসহ অন্যান্য কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ও সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। ‘দ্য ইকোনোমিক টাইমস’-এর সূত্রমতে, মার্কো রুবিওর এমন আগ্রাসী মন্তব্য এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এই কঠোর পদক্ষেপে এটিই পরিষ্কার হয়ে উঠেছে যে, আইসিসির বিচারিক ক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের চলমান স্নায়ুযুদ্ধ এখন আরও চরম রূপ ধারণ করতে যাচ্ছে।