আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বরাবরই শান্ত ও শান্তিপূর্ণ দেশ হিসাবে পরিচিত ভূটান ছবি: সংগৃহীত
জন্মহারের ভয়াবহ পতন এবং তরুণ প্রজন্মের আশঙ্কাজনক হারে বিদেশ পাড়ি দেওয়ার কারণে চরম জনসংখ্যা সংকটে পড়েছে হিমালয়ের কোলের শান্ত দেশ ভুটান। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। পরিবারগুলোকে বেশি সন্তান নিতে উৎসাহিত করতে এখন সরাসরি নগদ অর্থ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি দেশটির সরকার ‘থার্ড চাইল্ড প্লাস’ নামে একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু করেছে। এই প্রকল্পের আওতায়, কোনো পরিবারে তৃতীয় বা তার পরবর্তী সন্তান জন্ম নিলে, সেই শিশুর তিন বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে ১০৫ মার্কিন ডলার (স্থানীয় মুদ্রায় সমপরিমাণ) করে দেওয়া হবে।
ভুটানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে এই পরিস্থিতিকে দেশের জন্য একটি ‘অস্তিত্বের সংকট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। নতুন এই কর্মসূচির উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, "পরিসংখ্যান ও তথ্য-প্রমাণ স্পষ্ট জানান দিচ্ছে যে, ভুটানের প্রজনন হার বর্তমানে জনসংখ্যা ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় স্বাভাবিক মাত্রার চেয়েও নিচে নেমে গেছে।"
ভারত ও চীনের মাঝে অবস্থিত মাত্র ৮ লাখেরও কম জনসংখ্যার এই স্থলবেষ্টিত দেশটিতে বিগত এক দশকে বার্ষিক জন্মহার এক-চতুর্থাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক উপাত্ত অনুযায়ী ভুটানে বর্তমানে নারীপ্রতি সন্তান জন্মদানের হার কমে ১.৮-এ নেমে এসেছে, যা একটি দেশের জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখার ন্যূনতম প্রয়োজনের চেয়ে বেশ কম। বর্তমানে দেশটিতে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের অনুপাত মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ শতাংশ। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২০৫০ সালের মধ্যে এই হার ১৭ শতাংশে গিয়ে ঠেকবে। উন্নত জীবন ও কর্মসংস্থানের খোঁজে তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ দেশ ছাড়ছে, যা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
সরকারের এই উদ্যোগকে সাধারণ মানুষ ইতিবাচকভাবে নিলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে খোদ ভুটানিদের মনেই রয়ে গেছে কিছু সংশয়। ৩৫ বছর বয়সী সরকারি চাকুরিজীবী খান্দু ওয়াংমো সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "এটি অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। এর ফলে অনেক পরিবারই হয়তো তৃতীয় সন্তান নেওয়ার কথা ভাববে।"
তবে এর সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "সন্তান লালন-পালনের খরচ, আবাসন সংকট এবং ডে-কেয়ার বা শিশু সুরক্ষার ব্যয় যদি দিন দিন এভাবে বাড়তে থাকে, তবে শুধু নগদ অর্থ দিয়ে পরিবারগুলোকে বেশি সন্তান নিতে উৎসাহিত করা পুরোপুরি সম্ভব নাও হতে পারে।"
বিশ্লেষকদের মতে, নগদ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং তরুণদের জন্য দেশেই উপযুক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে না পারলে দীর্ঘমেয়াদে এই জনসংখ্যা সংকট মোকাবিলা করা ভুটানের জন্য বেশ কঠিন হবে।