আন্তর্জাতিক ডেস্ক
এর আগে জাপানের ইশিগাকি দ্বীপে আঘাত হানে টাইফুন বাভি ছবি: রয়টার্স
জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপপুঞ্জ ও তাইওয়ানে তাণ্ডব চালানোর পর এবার চীনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ঝেজিয়াংয়ে আছড়ে পড়েছে শক্তিশালী টাইফুন 'বাভি'। তবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের ধারণা, স্থলভাগে আঘাত হানার পর ঘূর্ণিঝড়টি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া প্রাদশিক আবহাওয়া দপ্তরের বরাতে জানায়, স্থানীয় সময় গত শনিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে টাইফুন বাভি চীনের ভূখণ্ডে আঘাত হানে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে চীনে আঘাত হানা এটি দ্বিতীয় কোনো টাইফুন। এর ঠিক আগেই দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে তাণ্ডব চালিয়েছিল টাইফুন ‘মায়সাক’।
১৭ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর, জারি উচ্চ সতর্কতা
টাইফুন বাভির প্রলয়ংকরী রূপ বিবেচনা করে চীনের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দুর্যোগ কবলিত এলাকাগুলো থেকে ইতোমধ্যে ১৭ লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। আঘাত হানার সময় কেন্দ্রের কাছাকাছি বাভির বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার (প্রায় ৮৯ মাইল)। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং সময়ের সাথে সাথে এর শক্তি হ্রাস পাচ্ছে।
এর আগে চীনের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা এই টাইফুনের কারণে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা বা ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করেছিল।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দেশটিতে কয়েক শত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। একই সাথে ট্রেন ও ফেরি চলাচল সীমিত করা হয়েছে। জানমালের ক্ষতি এড়াতে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
জনমনে শঙ্কা, তবে আশাবাদী বাসিন্দারা
ঝেজিয়াং প্রদেশের ঘনবসতিপূর্ণ ওয়েনঝু শহরের বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী হুয়াং জিংহুয়ান রয়টার্সকে বলেন, ‘টাইফুনের খবরে কিছুটা চিন্তিত হলেও পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে বলে আশা করছি। আমরা এর আগেও টাইফুন মোকাবিলা করেছি, এবারও সামলে উঠব।’ জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি ও তার পরিবার ইতিমধ্যেই দুই-তিন দিনের শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি মজুত করেছেন।
ফিলিপাইনে ১৭ মৃত্যু, তাইওয়ানে আহত শতাধিক
টাইফুন বাভি এবং শক্তিশালী দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর যৌথ প্রভাবে ফিলিপাইনে গত শুক্রবার রাত থেকে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। টানা বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ ভূমিধসে দেশটিতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, তাইওয়ানে প্রবল বাতাস ও ভারী বর্ষণের কারণে অন্তত ১৩৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, পিচ্ছিল সড়কে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাইচুং ও হুয়ালিয়েন কাউন্টিসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় ১৪ হাজার ২১০ জনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাইওয়ানজুড়ে সব স্কুল, সরকারি-বেসরকারি অফিস এবং অধিকাংশ রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখা হয়েছে।