আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: রয়টার্স
ইউরোপের মাটিতে এই প্রথম কোনো ব্যক্তির শরীরে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফ্রান্সে আক্রান্ত ওই ব্যক্তি পেশায় একজন চিকিৎসক। সম্প্রতি তিনি মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গোয় একটি হিউম্যানিটারিয়ান মিশন (মানবিক সহায়তা কার্যক্রম) শেষ করে স্বদেশে ফিরেছেন।
ফরাসি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আক্রান্ত চিকিৎসককে শনাক্ত করার পরপরই দ্রুত একটি স্পেশালাইজড ট্রিটমেন্ট সেন্টারে (বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্র) ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। এই ঘটনার পর কঙ্গো থেকে ফিরে আসা সকল ভলান্টিয়ার ও হেলথ ওয়ার্কারদের (স্বাস্থ্যকর্মী) জন্য একটি বিশেষ অবজারভেশন সিস্টেম (পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা) চালু করেছে ফ্রান্স সরকার। একই সঙ্গে আক্রান্ত চিকিৎসকের সংস্পর্শে কারা এসেছিলেন, তা ট্র্যাকিং করার জোর প্রচেষ্টা চলছে।
গত মাসে কঙ্গোতে আনুষ্ঠানিকভাবে ইবোলার আউটব্রেক (প্রাদুর্ভাব) ঘোষণা করা হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাসটি তার বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই ছড়াতে শুরু করেছিল। দেশটিতে ইতিমধ্যে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে ২৬০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ১,০০০-এরও বেশি মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন। কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি, দক্ষিণ কিভু ও উত্তর কিভু প্রদেশে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি; যার মধ্যে ইতুরিতেই ৯০ শতাংশের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, কঙ্গোতে আক্রান্ত ৭৫ জন হেলথ ওয়ার্কারের মধ্যে ১৭ জনই মারা গেছেন। তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হলো, এবারের প্রাদুর্ভাবটি ইবোলার ‘বান্ডিবুগিও’ স্ট্রেইন বা প্রজাতির কারণে ঘটছে, যার প্রতিরোধে এখন পর্যন্ত কোনো ভ্যাকসিন (টিকা) আবিষ্কার হয়নি।
কঙ্গোর এই পরিস্থিতি এখন প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ইতিমধ্যে ২০ জন সংক্রমিত এবং দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ডব্লিউএইচও সতর্ক করে জানিয়েছে, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে ‘এম২৩’ নামক একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর চলমান ভায়োলেন্স বা সংঘাতের কারণে সেখানে ইবোলা প্রতিরোধ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মার্কিন জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং আফ্রিকা সিডিসি-র মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে এই প্রাদুর্ভাবটি ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম ইবোলা বিপর্যয় হিসেবে রূপ নিতে পারে।