আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯৪৯ সালের পর এই প্রথম চীনে শিশুদের তুলনায় বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেশি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
১৯৪৯ সালের পর এই প্রথম চীনে শিশুদের তুলনায় বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেশি হয়েছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা এখন শূন্য থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে।
গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত চীনের প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের মধ্যে ১৫ দশমিক ৮৭ শতাংশের বয়স ছিল ৬৫ বছরের বেশি। অন্যদিকে, শূন্য থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু ছিল ১৫.২৫ শতাংশ।
জনসংখ্যাবিদ হে ইয়াফুর মতে, এই পরিবর্তনের ফলে পরিবারভিত্তিক বয়স্ক পরিচর্যা ব্যবস্থা আরো চাপে পড়বে। পাশাপাশি সরকারকে পেনশন ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বেশি ব্যয় করতে হবে।
চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (এনবিএস) জানিয়েছে, তথ্যগুলো নভেম্বর মাসে পরিচালিত একটি ‘মিনি-সেন্সাস’ বা ক্ষুদ্র আদমশুমারি থেকে নেওয়া হয়েছে। এই সমীক্ষা প্রতি দশ বছর অন্তর হওয়া দুটি জাতীয় আদমশুমারির মাঝামাঝি সময়ে পরিচালিত হয় এবং এতে ২ কোটিরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।
জনসংখ্যাবিদ হে ইয়াফু বলেন, ‘পেনশন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষ এখন শিশুদের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছেন। ফলে সামাজিক নিরাপত্তা ও পেনশন খাতে সরকারের ওপর আরো বেশি চাপ তৈরি হচ্ছে।
’ তিনি আরো বলেন, ‘পরিবার পর্যায়ে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে পরিবারের সদস্যসংখ্যা কমছে। এতে প্রবীণদের দেখভালের ঐতিহ্যবাহী পরিবারভিত্তিক ব্যবস্থা ব্যাপক চাপের মুখে পড়ছে।’
সমীক্ষায় আরো দেখা গেছে, চীনের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও কমছে। ১৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সীরা বর্তমানে মোট জনসংখ্যার ৬১ দশমিক ৮৯ শতাংশ, যা ১০ বছর আগে ছিল ৬৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
এ ছাড়া পরিবারগুলোর আকারও ছোট হয়ে আসছে।
গত বছরের শেষে চীনে প্রতি পরিবারের গড় সদস্যসংখ্যা ছিল ২ দশমিক ৫২ জন, যেখানে ১০ বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ৩ দশমিক ১০ জন।
হে ইয়াফু বলেন, এটিও একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা। কারণ একক ব্যক্তি ও দুই সদস্যের পরিবারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, ফলে দেখা যাচ্ছে, বিয়ে না করা এবং সন্তান না নেওয়ার প্রবণতা আরো বাড়ছে।
গত সপ্তাহে চীনের মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, জনগণের সামগ্রিক দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে দেশটি মানবসম্পদভিত্তিক সুবিধা আরো শক্তিশালী করবে এবং এর সম্ভাবনাকে কাজে লাগাবে। একই সঙ্গে সরকার ‘মধ্যম মাত্রার জন্মহার ও জনসংখ্যার আকার বজায় রাখার’ চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলেও জানানো হয়।
চীন ৬০ থেকে ৬৪ বছর বয়সী তুলনামূলক কমবয়সী প্রবীণদেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে দেখছে। গত বছরের শেষ দিকে জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর (এনবিএস) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নিবন্ধে একজন কর্মকর্তা বলেন, এই বয়সী অনেক মানুষ এখনও সুস্থ ও কর্মক্ষম এবং সমাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান। তাই অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে চলতি মাসের শুরুতে চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন স্থানীয় সরকারগুলোকে পরিবারগুলোর সন্তান জন্মদান, সন্তান লালন-পালন ও শিক্ষার ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানায়। পাশাপাশি নিয়োগকর্তাদের কর্মীদের কাজ ও পারিবারিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে সহায়তা করারও আহ্বান জানানো হয়।
এ লক্ষ্যে কমিশন একটি কর্মসূচি চালু করেছে, যার মাধ্যমে প্রতি তিন বছর অন্তর ৪০টি শহর ও ২০০টি কর্মস্থলকে ‘সন্তানবান্ধব’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। জন্মহার কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সন্তান জন্মদানে উৎসাহ দিতে সরকার ইতোমধ্যে নবজাতকের জন্য নগদ ভর্তাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এবং জন্মবান্ধব সমাজ গড়ার প্রচেষ্টা আরো জোরদার করছে।