আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
আমি আর আয়াতুল্লাহ মিলে হরমুজ নিয়ন্ত্রণ করব: ট্রাম্প
মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারেও। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, শিগগিরই হরমুজ প্রণালী খুলে যাচ্ছে। তখন এই বাণিজ্যিক পথটি যুক্তরাষ্ট্রও নিয়ন্ত্রণ করবে বলে জানান তিনি।
তিনি আজ সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে চললে সেটা খুব শিগগিরই খুলবে।
হরমুজে নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা যৌথভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে। আমি এবং আয়াতুল্লাহ — যিনিই আয়াতুল্লাহ হোন, পরবর্তী আয়াতুল্লাহ যিনিই হোন, তার সঙ্গে মিলে এটা নিয়ন্ত্রণ করব।
ইরানে শাসন পরিবর্তন নিয়েও কথা বললেন ট্রাম্প। তিনি বললেন, আর একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ধরনের শাসন পরিবর্তনও হবে। সংঘাতের প্রথম ঘণ্টাগুলোয় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশ নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বললেন, এমনিতেই একটা শাসন পরিবর্তন হয়ে গেছে।
তারপর সপ্তাহান্তের আলোচনায় আশার আলো দেখছেন বলে ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প। তিনি বললেন, আমরা এমন কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলছি যাদের আমি খুব যুক্তিবাদী, খুব দৃঢ় মনে করছি। এরা কারা তা ভেতরের মানুষরা জানেন, এরা খুব সম্মানিত। হয়তো তাদের একজনই হবেন ঠিক যাকে আমরা খুঁজছি।
যুদ্ধ বন্ধে উভয় পক্ষই চুক্তি করতে সম্মত হয়েছি: ট্রাম্প
ইরান অস্বীকার করলেও আলোচনা হয়েছে বলে অব্যাহতভাবে দাবি করে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তিনি বললেন, উভয় পক্ষ যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তি করতে রাজি হয়েছে।
আজ সোমবার (২৩ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেছেন, উভয় পক্ষই একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী।
ইরানের সঙ্গে আলোচনার কথা বললেও ট্রাম্প যোগ করেছেন যে, তিনি কোনো চুক্তির গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না।
তিনি বলেন, যদি কোনো চুক্তি হয়, তবে তা ইরান এবং এই অঞ্চলের জন্য একটি দুর্দান্ত সূচনা হবে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আলোচনায় ‘প্রধান বিষয়গুলোতে ঐকমত্য’ হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইরানের যে আলোচনার কথা তিনি দাবি করছেন, সেখানে উভয় পক্ষ ‘প্রধান প্রধান পয়েন্টগুলোতে একমত’ হয়েছে।
ইরানিরাই আলোচনার জন্য তাকে ফোন করেছে বলে ট্রাম্পের দাবি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন যে, ইরানিরাই আলোচনার জন্য তাকে ফোন করেছে, তিনি নিজে থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।
ট্রাম্পের এই আলোচনার দাবির বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দেশটির আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে যে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না।
ট্রাম্প আরও বলেন, কিছুক্ষণ আগে ইসরাইলি নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে যা আছে তাতে ইসরাইল খুবই খুশি হবে।
ট্রাম্পের আলোচনার দাবির বিষয়ে ইরান কী বলছে
যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে, তবে তেহরান থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সি দুই পক্ষের মধ্যে কোনো ধরনের আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
ইরান পরমাণু অস্ত্র না বানাতে সম্মত হয়েছে: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার দাবি করেছেন যে, ইরানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে। এতে যুদ্ধ বন্ধে চুক্তির বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনাও হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
সোমবার (২৩ মার্চ) ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি আসন্ন হুমকি ছিল।
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৫টি পয়েন্টে ঐকমত্য হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো- ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
ট্রাম্পের কাছে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, তিনি চান ‘সিস্টেমে যতটা সম্ভব বেশি তেল থাকুক’। মূলত সমুদ্রে আটকে থাকা ইরানি তেলের সরবরাহ সহজ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
আলোচনাই হয়নি: ইরান
সোমবার (২৩ মার্চ) ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ‘ফলপ্রসূ কথোপকথন’ সংক্রান্ত দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত।
আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সি এক ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে ‘কোনো সংলাপ’ হচ্ছে না।
ঐ সূত্রটি দাবি করেছে যে, ট্রাম্পের এই মন্তব্যগুলো মূলত ‘জ্বালানির দাম কমানো এবং সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময়ক্ষেপণ করার’ একটি কৌশল।
তবে ইরানি সূত্রটি এটি স্বীকার করেছে যে, আঞ্চলিক দেশগুলো উত্তেজনা হ্রাসের লক্ষ্যে কিছু উদ্যোগ বা প্রস্তাবনা পেশ করেছে।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা এই যুদ্ধ শুরু করিনি, তাই এ ধরনের সব দাবি ওয়াশিংটনের দিকেই নির্দেশ করা উচিত।’
গত দুই দিনে তেহরানের সঙ্গে ‘খুব ভালো ও ফলপ্রসূ’ আলোচনার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প সোমবার জানান যে, তিনি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে সমস্ত হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন শুরু করে। এরপর সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে। টালমাটাল হয়ে পড়ে বিশ্ব জ্বালানি বাজার।
সূত্র: আল জাজিরা।